স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির খাবার
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির খাবার

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির খাবার কি কি তা অবশ্যই আমাদের জানা দরকার, বিশেষ করে তরুণ ছেলে মেয়েদেরকে।

যথেষ্ট স্মৃতিশক্তি আমাদের জন্য কী পরিমাণ প্রয়োজন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কালকে কি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, আজকে সকালে কি করেছেন বা কি খেয়েছেন এইসব কি আপনার মনে থাকে না? পড়াশোনা কী দীর্ঘসময় মনে রাখতে পারেন না অর্থাৎ যেকোনো কাজই করেন না কেন খুব তারাতারি ভুলে যাচ্ছেন? তাহলে বুঝতে হবে আপনার স্মৃতিশক্তি কমে গেছে বা দুর্বল হয়ে পরেছে। স্মৃতিশক্তি ভালো নাই মানে, আপনি কিছুই করতে পারবেন না। যদি বলা হয় শরীরের কোন অংশটুকুর গুরুত্ব অনেক বা কোনটি ছাড়া আপনি চলতে পারবেন তাহলে উত্তর আসবে, আপনার সুস্থ ব্রেইন।

অর্থাৎ ব্রেইন যদি অসুস্থ হয়ে যায়, তাহলে স্মৃতিশক্তি ক্রমস লোপ পেতে থাকে। ফলে ভবিষ্যতে আপনার দ্বারা কোন কাজই করা সম্ভব হবে না। জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে ও প্রতিটি কাজে স্মৃতিশক্তির ভূমিকা অনন্য। এখানে আপনি জানতে পারবেন স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার ১০টি খাবার সম্পর্কে, অর্থাৎ যে পুষ্টিকর খাবার গুলো নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি সুস্থ, সবল, সতেজ ও ভালো থাকে এবং ধীরে ধীরে আরও বাড়তে থাকে। তাহলে দেখে নিন সেই কার্যকরী খাবার গুলো।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার ১০টি খাবার

০১। বিশুদ্ধ পানি।
০২। খাঁটি দুধ।
০৩। মাছ।
০৪। টমেটো।
০৫। ডিম।
০৬। শাক – সবজি।
০৭। বাদাম।
০৮। গ্রীন ট্রি।
০৯। কফি।
১০। পাকা কলা।

এখন সঠিক, প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী তথ্যের সাথে বিস্তারিতভাবে জেনে নিন, কেন কিভাবে এই ১০টি খাবার খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

০১। বিশুদ্ধ পানি।

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে পানির ভূমিকা রয়েছে, অনেকেই অবাক হচ্ছেন তাইতো। হ্যাঁ স্মৃতিশক্তি সুস্থ ও ভালো রাখতে বিশুদ্ধ পানির ভূমিকা অনন্য। পানির অপর না জীবন আমরা সবাই জানি। এবং বিশেষজ্ঞদের মতে শরীর ও ব্রেইন সুস্থ ও সতেজ রাখার জন্য প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খাওয়া উচিত। বিশুদ্ধ পানিতে পর্যাপ্ত উপাদান রয়েছে যা মস্তিষ্কে যথেষ্ট শক্তি প্রদান করে থাকে।

যার কারণে ব্রেইন সঠিকভাবে কাজ করে এবং এটি স্মরণশক্তি বাড়াতে ও অবদান রাখে। যদি খারাপ বা ময়লা যুক্ত পানি পান করেন তাহলে আপনি খুব গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়বেন, তাহলে বুঝতেই পারছেন শরীর সুস্থ ও সবল রাখার জন্য বিশুদ্ধ পানির ভূমিকা কতটা। এটি খেলে শরীরের ক্লান্তিভাব চলে যায় এবং খুব সতেজ লাগে। তাই অবশ্যই চেষ্টা করবেন নিয়মিত পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করার।

০২। খাঁটি দুধ।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির খাবার গুলোর মধ্যে খাঁটি গরুর দুধ হচ্ছে অন্যতম। খাঁটি দুধের ভূমিকা অতুলনীয়। দুধ একটি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং আমরা যত খাবার দেখি, সবগুলোর মধ্যে অন্যতম সুস্বাদ খাবার। এতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ, যেমন ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, নিয়াসিন, কোলেস্টেরল ও রিবোফ্লভিন।

বুদ্ধি বাড়াতে বা স্মৃতিশক্তি সচল রাখতে খাঁটি দুধের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। দুধের রয়েছে অনেক কার্যকরী ও বিস্ময়কর উপকারিতা। তাঁর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এটি দেহের ক্লান্তি দূর করে পর্যাপ্ত শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে ও বিশেষ ভূমিকা রাখে। খাঁটি দুধের মধ্যে রয়েছে মিডিয়াম চেইন ট্রাইগ্লিসারাইডস, যা বুদ্ধির বিকাশের অন্যতম নিয়ামক। বেড়ে উঠা ছেলে মেয়েদের নিয়মিত খাঁটি গরুর দুধ খাওয়ান, দেখবেন তাদের স্মৃতিশক্তি কতটা শক্তিশালী ও বৃদ্ধি পায়।

০৩। মাছ।

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অন্যতম একটি খাবার হচ্ছে মাছ। তৈলাক্ত ছোট মাছ গুলো ব্রেইনের পাওয়ার বৃদ্ধি করতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে। আমিষ জাতীয় খাবারের মধ্যেও মাছের স্থান প্রথম। অর্থাৎ আপনার মস্তিষ্ক সুস্থ, সবল, ভালো ও শক্তি শালী করার জন্য অবশ্যই নিয়মিত মাছ খেতে হবে। এতে রয়েছে অনেক ধরনের পুষ্টিগুণ, যেমন এটিতে আছে বিভিন্ন ধরনের প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ লবণ এছাড়াও মাছে চর্বি, খনিজ তেল, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস পাওয়া যায়।

মাছের কম ক্যালোরির জন্য একটি সুনাম রয়েছে, মাছের তেল ওমেগা ৩ ফ্যাটি এর একটি উৎস, যা ‘মস্তিস্ক খাদ্য’ নামে পরিচিত। স্যামন এবং টুনা মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সবচেয়ে ভালো উৎস। মাছ শিশুর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। তাই স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অবশ্যই নিয়মিত পুষ্টি সম্পন্ন মাছ খাওয়া উচিত।

০৪। টমেটো।

সবজি খাবারের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ও জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে টমেটো। এটি ত্বক সুস্থ রাখতে, দেহের হাড় মজবুত রাখতে ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং খাওয়ার রুচি বৃদ্ধি করা ছাড়াও আরও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও অনেক অবদান রাখে। এটি কাঁচা ও রান্না করে দুভাবেই খাওয়া যায়। টমেটোতে ও রয়েছে কিছু বিশেষ পুষ্টিকর উপাদান বা গুণাগুণ যা শরীরের অন্যান্য উপকারের পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও বিশেষ অবদান রাখে।

টমেটোতে রয়েছে লাইকোপেন, যা খুবই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত খাবারের সঙ্গে সালাদ হিসেবে টমেটো খেলে তা মস্তিষ্কের পক্ষে বিশেষ উপকারী। বেশীরভাগ মানুষ টমেটো দিয়ে সালাত বানিয়ে খেতে পছন্দ করে এবং অনেকে রান্না করে খেতেও পছন্দ করে। তবে যেভাবেই হোক দিনে অন্ততপক্ষে ১/২টি টমেটো খাওয়ার চেষ্টা করবেন ফলে যথেষ্ট পরিমাণে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকবে। অর্থাৎ স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও সক্রিয় রাখার জন্য নিয়মিত টমেটো খাওয়া উচিত।

০৫। ডিম।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির খাবার গুলোর মধ্যে ডিমের ভূমিকা অনন্য রয়েছে। একটা ডিমে রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ, যেমন শক্তি, সর্করা, স্নেহ পদার্থ, প্রোটিন, ভিটামিন এ, থায়ামিন (বি১), কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়ামসহ আরও অনেক কার্যকরী উপাদান, যা শরীর ভালো রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি ও অনেক ধরনের উপকার করে থাকে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও এক অনন্য ভূমিকা রাখে।

সেদ্ধ ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন থাকে এবং ডিমের কুসুমে থাকা Choline অনেক দিনের পূর্বের কাজ বা পড়াশোনাও মনে রাখতে সহায়তা করে। একটি বিশেষ গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত সেদ্ধ ডিম খাওয়া ছেলে মেয়েরা অন্যদের তুলনায় অনেকটা স্মৃতিশক্তির অধিকারী হয়ে থাকে। তাই নিয়মিত সকালে নাস্তার আগে একটি করে সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।

০৬। শাক – সবজি।

স্মৃতিশক্তি সক্রিয় রাখতে নিয়মিত শাক সবজি খেতে হবে। অর্থাৎ আপনি কি শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চান? শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রাকৃতিক উপায়ে খুব সহজে প্রতিরোধ করতে চান? এবং ফিটনেস উপযুক্ত ও ওজন বাড়াতে চান, তাহলে নিয়মিত শাক সবজি খান, দেখবেন অনেক উপকার পাবেন। শাক সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আমিষ, খনিজ পদার্থ সহ আরও অনেক কার্যকরী উপাদান। সবজি কাঁচা খাওয়া যায় বা রান্না করেও খাওয়া যায়, যা মানুষের শরীরের পুষ্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে চর্বি ও শর্করা খুব কম পরিমাণ রয়েছে, কিন্তু ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ফাইবার উচ্চ মাত্রায় বিদ্যমান। যার ফলে আপনার স্মৃতিশক্তির ধারন ক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

০৭। বাদাম।

স্বল্প খাবারের মধ্যে বাদাম সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবার। এটি একটি চমৎকার আয়ুর্বেদিক উপাদান। অনেক ধরনের বাদাম রয়েছে, যেমনঃ কাঠ বাদাম, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, কাখরোট বাদাম, পেস্তা বাদাম। প্রায় সব ধরণের বাদামই শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এছাড়াও বাদামে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, পটাসিয়ামসহ অনেক ধরনের ভিটামিন রয়েছে। প্রায় সব ধরনের বাদাম এই স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত বাদাম খাওয়া চেষ্টা করুন।

বাদাম খাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপকারিতা জানতে, এখানে ক্লিক করুন!

০৮। গ্রীন ট্রি।

গ্রীন টি খাওয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। মন সতেজ ও শরীর টাটকা রাখতে সকাল বিকালে নিয়মিত গ্রীন টি খান। শুধু তাই নয়, মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিতে ও ঠাণ্ডা রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে নিয়মিত গ্রীন টি খাওয়া উচিত। ব্রেইনকে সুস্থ ও ভালো রাখতে এটি এক বিশেষ ভূমিকা রাখে। University of Basel গবেষণায় দেখেছে যে, গ্রিন টিয়ের নির্যাস মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যারা নিয়মিত গ্রিন টি পান করেন তাদের কাজের মনোযোগ যারা দুধ চা পান করেন তাদের থেকে বেশি হয়ে থাকে। তাহলে বুঝতেই পারছেন গ্রীন টি খাওয়ার উপকারিতা কেমন! অর্থাৎ স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য প্রতিদিন সকালে ব্রেকফাস্ট এর পর এবং বিকালে ঘুম থেকে উঠার পর এক কাপ গ্রীন চা পান করুন।

০৯। কফি।

স্মৃতিশক্তি ভালো, সক্রিয় রাখতে ও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করতে কফি ও এক অনন্য অবদান রাখে। কাজের ফাঁকে যদি এক কাপ কফি খাওয়া যায়, তাহলে যেন এক নিমিষেই ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। অর্থাৎ নিজেকে একটু রেস্ট দিতে কফি খাওয়া দরকার। কফি খেলে অনেকটা চিন্তা মুক্ত থাকা যায় ফলে আপনার ব্রেইনও রিলাক্সে থাকে। আর আপনার ব্রেইন বা মস্তিষ্ক বিশ্রামে থাকা মানে স্মৃতিশক্তি সক্রিয় থাকা। এই কফি মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কফিতে ক্যাফেইন নামক উপাদান আছে যা রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ ঠিক রেখে কাজে মনোযোগ বৃদ্ধি করে। তাই দিনে ১/২ বার কাজের মাঝখানে কফি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

১০। পাকা কলা।

বহুল পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ও স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে কলা অতুলনীয় একটি ফল। পাকা কলার ও যথেষ্ট উপকারিতা রয়েছে। এবং এটিতে যে পরিমাণ উপাদান রয়েছে, যা শরীর, মন সব কিছু ভালো রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি বিভিন্ন গুণাগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, আমিষ ও খনিজ পদার্থসহ আরও কিছু উপাদান এবং এটিতে ক্যালরি পাওয়া যাই যতেষ্ট পরিমাণে। প্রতিদিন ১/২ টি কলা খেতে পারলে শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ভালো ফল পাওয়া যায়। কলার অন্যতম গুণ হচ্ছে এটি শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং মানসিক চাপ থেকে অনেকটা মুক্ত করে। তাই স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য নিয়মিত পাকা কলা খাওয়া উচিত।

আশা করি, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির খাবার গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

আরও জানুন –

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here