Thankful button
Thankful button

ফেসবুক, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যার শুরুটা হয় ২০০৪ সালে। সূচনালগ্ন থেকে ব্যবহারকারীগন ফেসবুকে তাদের লিখা ও ছবিসহ বিভিন্ন কনটেন্ট আপলোড করার সুবিধা পায়। কিন্তু এসব কনটেন্ট এ অন্য ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দ-অপছন্দের কথা জানানোর কোন অপশন ছিলো না।

পরবর্তীতে দীর্ঘ ৫ বছর পর ২০০৯ সালের ৯ ই ফেব্রুয়ারী ফেসবুকে প্রথমবারের মতো ‘Like’ নামক একটি বাটন সংযুক্ত করা হয়। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একে অন্যের পোস্ট করা কনটেন্ট এ নিজের পছন্দের কথা জানাতে পারতো এবং ফেসবুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই সংখ্যাটাও গননা করা হতো। ব্যবহারকারীরা কমেন্টে ‘Like’ সংযুক্ত করা সুবিধা পায় ২০১০ সালের জুন মাস থেকে।

কিন্তু ব্যবহারকারীদের চাহিদা এখানেই থেমে থাকে নি। পছন্দের কনটেন্টগুলোকে ‘Like’ বাটনের দ্বারা স্বাগত জানাতে পারলেও, অপছন্দের কনটেন্টগুলোর জন্য ‘Dislike’ বাটনের দাবি উঠতে থাকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। এ নিয়ে ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রশ্নেরও সম্মুখীন হতে হয়। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন ‘ফেসবুক আপাতত ‘Dislike’ বাটন রিলিজের ব্যাপারে কিছু ভাবছে না।

প্রকৃতপক্ষে ফেসবুক চেয়েছিল ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যাতিক্রমধর্মী কিছু নিয়ে আসতে। অবশেষে তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ফেসবুক পরীক্ষামূলকভাবে স্পেন ও আয়ারল্যান্ডে Love, Haha, Wow, Sad, Angry নামে পাঁচটি নতুন রিয়্যাক্ট বাটন চালু করে।

react buttons
react buttons

পরীক্ষা শেষে ২০১৬ সালের ২৪ শে জানুয়ারি ফেসবুক এই বাটনগুলোকে বিশ্বব্যাপী সকল ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। যার ফলে ফেসবুকের মোট বাটন সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ টি। নতুনভাবে নিয়ে আসা ৫ টি রিয়্যাক্ট বাটন কমেন্টেও সংযুক্ত করার সুবিধা চালু হয় ২০১৭ সালের জুন মাসে।

কোন বাটনের কি কাজঃ

Like:

এটাই ফেসবুকের সর্বপ্রথম এবং একটানা ৭ বছর একাই রাজত্ব করা বাটন। সাধারণত ব্যবহারকারীরা অন্যদের কোন কনটেন্ট পছন্দ হলে এই বাটনের ব্যবহার করে থাকে। এই বাটনে চেপে ধরে রাখার কোন ঝামেলা নেই, তাই অধৈর্যশীল মানুষদের জন্য এই বাটনটি বেশ উপযোগী। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই ‘Like’ বাটনটি অপর্যাপ্ত এবং অনুপযোগী।

Love:

‘Love’ বলতে আমরা সাধারণত ভালবাসাকেই বুঝি। আর ভাললাগা থেকেই ভালবাসার উৎপত্তি, সেটা আমরা সবাই জানি। তাই কারও আপলোডকৃত কনটেন্ট যদি অন্য ব্যবহারকারীর খুব বেশি ভাল লাগে, তাইলে এই বাটনের মাধমেই সেটার বহিঃপ্রকাশ করে থাকে। সেসব ক্ষেত্রে ‘Like’ বাটনটি পরিপূর্ণ অনুভূতি প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়।

Haha:

সামাজিক যোগাযোগ মাধমের পাশাপাশি ফেসবুক বিনোদনেরও একটি অন্যতম মাধম। এখানে প্রচুর পরিমাণে ফানি কনটেন্ট আপলোড করা হয়। সেক্ষেত্রে এসব কনটেন্ট এর বিপরীতে কোন ব্যবহারকারী তার প্রতিক্রিয়া জানাতে হলে এই ‘Haha’ বাটনটি ব্যবহার করে থাকে। এক্ষেত্রেও ‘Like’ বাটনের দ্বারা পরিপূর্ণ অনুভূতিকে প্রকাশ করা যায় না।

Wow:

ফেসবুকে এমন অনেক কনটেন্ট আপলোড হয়, যা দেখে আমরা খুব অবাক হয়ে থাকি। আর এই অবাক হওয়ার বিষয়টি বুঝাতেই ‘Wow’ বাটনটি ব্যবহার করা হয়। এসব ক্ষেত্রে কেউ ‘Like’ বাটনের ব্যবহার করলে, উক্ত ব্যবহারকারী কনটেন্ট দেখে অবাক হয়েছে কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

Sad:

দুঃখ প্রকাশ করার উদ্দেশ্যেই মূলত এই বাটন ব্যবহার করা হয়। ধরুন, কোন ব্যবহারকারী তার পরিবারের কারও মৃত্যু সংবাদ প্রচার করে ফেসবুক পোস্ট করেছে কিংবা কেউ তার বড় কোন দূর্ঘটনার খবর জানিয়ে পোস্ট করেছে অথবা কেউ তার পরিবারের মৃত্যুশয্যায় থাকা কোন সদস্যের জন্য দোয়া চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। সেসব পোস্টে ‘Like’ বাটনটি কতটুকু উপযোগী? অবশ্যই খুবই অনুপযোগী এবং বেমানান। তাই এসব ক্ষেত্রে ‘Sad’ বাটন ব্যবহারের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী তার দুঃখ কিংবা শোক প্রকাশ করে থাকে।

Angry:

ফেসবুকে ‘Dislike’ বাটনের আক্ষেপ এই বাটনের দ্বারা পূরণ করা যায়। কোন ব্যবহারকারী অনেক সময় এমন কিছু কনটেন্ট আপলোড করে, যেগুলো সামাজিক নিয়মকানুনের সাথে সাংঘর্ষিক কিংবা অন্য কোন ব্যবহারকারীর মতবিরোধী বা অপছন্দনীয়। তাই কারও কনটেন্টের প্রতি একজন ব্যবহারকারী তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করতেই ‘Angry’ বাটনটির ব্যবহার করে থাকে

ফেসবুকের কিছু অস্থায়ী বাটন :

ফেসবুকে এই ছয়টি বাটন ব্যতীত এ পর্যন্ত আর দুটি রিয়্যাক্ট বাটনের দেখা পেয়েছে ব্যাবহারকারীগণ। বাটন দুটি হচ্ছে ‘Thankful button’ ও ‘Pride button’।

Thankful button:

Thankful button
Thankful button

২০১৬ ও ২০১৭ সালে ‘Mother’s day’ উপলক্ষে ফেসবুক সাময়িকভাবে অন্যান্য বাটনের পাশাপাশি Thankful’ নামে একটি নিয়ে আসে। যা অনেকটা ফুলের প্রতিকৃতিতে ডিজাইন করা হয়েছিল। তবে দু-বারই ফেসবুকে এই বাটনটি অল্প কিছুদিনের জন্যই স্থায়ী ছিল।

Pride Button:

pride button
pride button

২০১৭ সালের জুন মাসে ফেসবুক ‘Pride Month’ উদযাপন উপলক্ষে ব্যবহারকারীদের আরও একটি অস্থায়ী বাটনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। যেটি ডিজাইন করা হয়েছিল ‘Rainbow Flag’ এর আদলে। তবে এই বাটনটি ফেসবুকের সকল ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। মূলত সমকামী শ্রেণীর লোকদেরকে উৎসাহ প্রদানের জন্য ফেসবুক এই বাটনটি নিয়ে এসেছিল। আর তাই যেসব দেশে সমকামীতাকে অবৈধ মনে করা হয়, সেসব দেশে ফেসবুক এই বাটনটি রিলিজ করেনি।

কোন ব্যবহারকারী এই বাটনটি তার নিজের একাউন্টে এক্টিভ করতে হলে তাকে প্রথমে নির্দিষ্ট লোকেশন থেকে LGBTQ@Facebook নামক একটি ফেসবুক পেইজে ‘Like’ প্রদান করতে হতো।

রিয়্যাক্ট বাটনের সর্বশেষ আপডেট :

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীর পোস্টে রিয়্যাক্ট এর সংখ্যা গননা না করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এজন্য তারা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়াতে এ ব্যাপারে একটি ট্রায়াল পরিচালনা করছে। যদি এটি বিশ্বব্যাপী কার্যকর করা হয়, তবে একজন ব্যবহারকারী অন্য ব্যবহারকারীর পোস্টের রিয়্যাক্ট সংখ্যা দেখতে সক্ষম হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here