লোগো ডিজাইনার
সফল লোগো ডিজাইনার রিজানুর রহমানের গল্প

সফল লোগো ডিজাইনার রিজানুর রহমান, যিনি ২০১১ সাল থেকে দেশি ও বিদেশি শত শত কোম্পানির লোগো এবং ব্রান্ডিং ডিজাইনিং করে আসছে। কিভাবে কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এত দূর আসছে, সেটাই আজকে উনার থেকে বিস্তারিত জানবো।

আপনি কি সফল হতে চান? অবশ্যই হ্যাঁ বলবেন। তাহলে প্রথমেই আপনার ক্যারিয়ারের জন্য একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ধৈর্য্য সহকারে সঠিকভাবে স্মার্টলি কাজ করে যেতে হবে।

কাজের মাঝখানে হতাশায় যেন না ভুগেন বা হাল না ছেড়ে দেন সেইজন্য নিয়মিত সফল মানুষদের জীবনী পড়ুন। খুব নিখুঁতভাবে বুঝার চেষ্টা করুন যে তারা কিভাবে সফল হয়েছে, কোথায় কোন কাজের জন্য ব্যর্থ হয়েছিল, আর কিভাবেই বা সেই সমস্যা গুলো সমাধান করে সফল হয়েছে? যার ফলে আপনার সফল হওয়ার পথটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

সফল হওয়ার জন্য জীবনের সিদ্ধান্ত গুলো সঠিক সময়ে সঠিকভাবে নেয়াটা অনেক বড় একটি কাজ। আর এই কাজটি করতে কোনো প্রকার দ্বিধাবোধ করবেন না। নিজের জীবন সম্পর্কে বেশ সচেতন থাকুন, ভালো ও সফল মানুষদের ফলো করুন আর রিসার্চ তো অবশ্যই করবেন।

যাঁদের নিজেদের লক্ষ্য স্থির, যাঁরা সাফল্যকে ছুঁতে দৃঢ় প্রত্যয়ী, তাঁদের সঙ্গে মিশুন, কথা বলুন। আপনিও সাফল্যকে ছুঁতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হবেন। দ্রুত সফলতা অর্জনের জন্যে এ পথের কোন বিকল্প নেই।

জীবনে সফল হতে হলে অবশ্যই আপনাকে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। জীবন চলার পথে বাঁধা আসতেই পারে তাই বলে থেমে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই, যেখানে বাঁধা আসবে সেখান থেকেই আবার শুরু করতে হবে।

আজকে ট্রেন্ডি বাংলাতে এমন একজন সফল মানুষের পরিচিয় করিয়ে দিবো, যিনি সকল বাঁধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং করে যাচ্ছেন। শত শত কোম্পানিকে কোয়ালিটি ব্রান্ডিং ডিজাইন সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন।

সফল লোগো ডিজাইনার হওয়ার গল্প

আমি রিজানুর রহমান, একজন প্রফেশনাল লোগো এবং ব্রান্ডিং ডিজাইনার। ২০১১ সাল থেকে গ্রাফিক্সের কাজ করে আসছি। এখন পর্যন্ত শত শত কোম্পানির লোগো এবং ব্রান্ডিং ডিজাইন করে দিয়েছি।

আমার জন্ম কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানায়। লাকসাম ঐতিহ্যবাহী নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ডিগ্রি পাশ করি। পরবর্তীতে ঢাকায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করি।

বর্তমানে কি নিয়ে কাজ করছেন এবং ১০ বছরে কি কি অর্জন করেছেন?

99 ডিজাইনে মোট ৭৭ টা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছি এবং ১০৭ টা প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হয়েছি। 99 ডিজাইনে বিজয়ী এবং রানার্স আপ হওয়া অনেক কঠিক কাজ। একটি প্রতিযোগিতায় ২ থেকে ৩ শত ডিজাইনার অংশগ্রহণ করে কিছু প্রতিযোগিতায় তারও অধিক ডিজাইনার অংশগ্রহণ করে সেখান থেকে সর্বোচ্চ ৬ জন কে ফাইনাল রাউন্ডের (রানার্স আপ) জন্যে নির্বাচিত করা হয়।

আমি ৯৯ ডিজাইন ছাড়াও অন্যান্য মার্কেটপ্লেসে কাজ করেছি, তবে 99 ডিজাইনেই বেশী কাজ করেছি কারণ আপনি যখন একটা মার্কেটপ্লেসে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করবেন, তখন ঐ সাইট সম্পর্কে আপনার অনেক ধারণা ও অভিজ্ঞতা হবে এবং কাজ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবেন। আর এই অভিজ্ঞতা আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

অনলাইন মার্কেটপ্লেস ৯৯ ডিজাইনের পাশাপাশি, বাংলাদেশে অসংখ্য ক্লায়েন্টের কাজ করেছি। যেখানে লোগো ও ব্রান্ডিং ডিজাইন নিয়ে কাজ করা হয়েছে।

লোগো ডিজাইন
আমার করা একটা দেশীয় ব্রান্ডিং লোগো ডিজাইন

আমি ২০০৭ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করি, বিদ্যুৎ সেক্টরে কাজ করছি। এখনও চাকুরীতে কর্মরত আছি এবং ইনশাআল্লাহ্ সুস্থ্য থাকলে ৬০ বছর পর্যন্ত চাকুরী করে যাবো।

সরকারি চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করতেছি। এছাড়াও বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন/লোগো ডিজাইন ট্রেইনার হিসেবে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত ১৭ টা ব্যাচ অফলাইনে সম্পন্ন করেছি এবং অনলাইনে ১০ম ব্যাচ চলমান আছে (অনলাইনে ইতিমধ্যে দেশের বাহিরে দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, কলকাতা এবং ওমান থেকে আমার ষ্টুডেন্ট ছিল)।

কিভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছেন?

প্রধানত আমার শুরুটা যেইভাবে হয়েছে, সেটা হচ্ছে। আমি ২০০৯ এবং ২০১০ সালের দিকে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টা শুনি, দেখলাম বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখালিখি হচ্ছে। অনেক বড় ভাইদের থেকেও মাঝে মাঝে ফ্রিল্যান্সিং বিষয় নিয়ে শুনেছি। তখন ধীরে ধীরে এই বিষয়টা ভালো লাগতে থাকে এবং কিভাবে ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায় সেইটা স্বপ্ন দেখতে থাকি।

আসলে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টা কি? বাসায় বসে কিভাবে মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করছে? কি কি ধরনের কাজ করে সার্ভিস দিচ্ছে মনের মাঝে এইরকম অনেক বিষয়ে প্রশ্ন আসতে থাকে আর আমিও তখন এই বিষয় গুলো জানার ও বুঝা শুরু করি।

একদিন আমি নিলক্ষেতে গিয়েছিলাম শুধু অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য ফ্রিলান্সিং এর উপরে কোন বই আছে কিনা খুঁজতে। তখন মাহবুব স্যারের ফ্রিলান্সার ডট কমের একটা বই পেলাম এবং সেটা খুব ভালোভাবে পড়ার চেষ্টা করলাম। এই বই থেকে অনেক কিছুই জেনেছি।

ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে করতে হয়? এই সাইট গুলো থেকে কিভাবে ইনকাম করতে হয়? তারজন্য কি কি কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়। এইরকম অনেক বিষয় জানার চেষ্টা করতে থাকি।

আমি আবার ফটোশপ দিয়ে ছবি এডিটিং করা, ছবির বাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করা এইসব টুকটাক কাজ নিজে নিজেই শিখেছি, এইগুলো করতে অনেক মজা পেতাম, সবার সাথে একটু আনন্দ করতাম। যার ফলে টুলসের ধারণা আগের থেকেই কিছুটা ছিল। আর যেহেতু ছবি এডিটিং করা একটা নেশার মতো ছিল তাই প্রতিনিয়ত করতাম এবং টুলস গুলো আরও ভালোভাবে শিখতে লাগলাম।

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নেওয়ার পর কি করেছেন?

আমি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে একটু ধারণা নেওয়ার পর চিন্তা করলাম, ভালো কিছুর জন্য সঠিকভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। এইজন্য একটা ব্যাসিক কোর্স করা প্রয়োজন মনে করলাম। তখন ফকিরাপুল থেকে ৩ মাসের শুধু ফটোশপ এবং ইলেস্ট্রেটর ব্যাসিকের উপর একটা কোর্স করি।

যেহেতু আমার আগ্রহ ছিল অনেক এবং আগে থেকেই মোটামুটি ফটোশপ টুলসের কাজ করতাম, তারপর কিছু বই পড়েছি এবং একটা ব্যাসিক কোর্স করেছি। যার ফলে পুরো ব্যাপারটা খুব ভালোভাবে বুঝতে থাকি, ক্লাস শেষে বাসায় এসে পুরোদমে প্রাকটিস করতাম। এবং দিন দিন নিজের স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে থাকি।

একটা সময় মার্কেট প্লেসে কাজ করার খোঁজ খবর নিতে থাকি, তখন আমার এক বন্ধু বলল, 99 ডিজাইন মার্কেটপ্লেসে এ কাজ শুরু করতে পারিস। তখন 99 ডিজাইনে একাউন্ট খুললাম এবং সেখানের লোগো গুলো নিয়মিত দেখে ধারণা নিতে থাকলাম।

তারপর শুরু করলাম লোগো সাবমিট করা, কিন্ত উইন করতে পারছিলাম না।

একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে,

বাংলাদেশে আমরা যেইরকম ডিজাইন শিখেছি বাহিরের দেশের সাথে খুব বেশি মিলে না। দেশে যেইরকম কাজ করে থাকি বা যেইরকম ডিজাইন এর প্রচলন হয়ে থাকে, সেইটার সাথে বিদেশীদের কাজের মধ্যে কোন মিল নাই। একদম টোটালি ডিফারেন্ট। কালার সিলেকশন, ফন্ট সিলেকশন, কনসেপ্ট, প্রজেন্টেশন সবই বাংলাদেশী থেকে আলাদা। যার কারণে আমাদের অনেকেই দেশীয় ষ্টাইলে কাজ শিখে বিদেশীদের সাথে কাজ করতে সমস্যা হয়। আর আমার বেলায় তাই হয়েছিল। যেহেতু আমি নিজে নিজেই সবকিছু চেষ্টা করেছি তাই ওদের ডিজাইন এর কোয়ালিটির মতো আমি ডিজাইন করতে পারছিলাম না।

এইভাবে লোগো সাবমিট করতে করতে প্রায় ৪ মাস হয়ে গেলেও কোন উইন পাচ্ছিলাম না। তারপর একটা সময় আমার নিজের উপর খুব রাগ হচ্ছিল এই ভেবে যে, এইটা এমন কি, যে অনেক মানুষ পারছে আর আমি পারবো না। খুবই রাগান্বিত হলাম কেন উইন হচ্ছি না, এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করি। নিজের ভুল গুলো বের করে দিন দিন ডিজাইন উন্নতি করি।

ব্যর্থতা আসলে নতুন করে শুরু করার একটা দারুন সুযোগ, এবার তোমাকে শুধু আরেক্টু বেশি বুদ্ধি খাটাতে হবে। -হেনরি ফোর্ড

টপ লেভেল ডিজাইনারদের সাথে আড্ডার মুহূর্ত

তারপর আমি প্রায় দীর্ঘ ৮ মাস চেষ্টা করে ৮৭৪ টা লোগো সাবমিট করেছি। ৮৭৪ টা লোগো সাবমিট করার পর প্রথম উইন পাইছি যার প্রাইজমানি ছিল ৩০৫ ডলার। অস্ট্রেলিয়ান একজন মহিলা ক্লায়েন্টের কাজ ছিল।

২০১১ সালের শেষের দিকে উইন করেছিলাম, এটা হচ্ছে আমার সফলতার প্রথম শুরু।
এতগুলো কন্টেস্টে অংশগ্রহণ মানে বুঝতেই পারছেন অনেক সময় লেগেছে, তবে আমি হাল ছেড়ে দেয় নাই কারণ ঐ যে আমার একটা জিদ কাজ করছিলো, সবাই উইন হলে আমি কেন পারবো না।

অতএব একটা মানুষের যদি জিদ থাকে, টার্গেট থাকে যে, সবাই পারলে আমি কেন পারবো না আমাকে পারতেই হবে এবং সঠিকভাবে আগানোর চেষ্টা করে তাহলে অবশ্যই সফলতা আসবে। আমি প্রথম দিকে লোগো সাবমিট করলে কোন রেটিং পেতাম না, ধীরে ধীরে রেটিং পাওয়া শুরু করি, আমার কাছে মনে হয়েছে আমি যতই লোগো সাবমিট করেছি ততই এগিয়ে যাচ্ছি। এই হচ্ছে আমার শুরুটা।

সফল লোগো ডিজাইনার রিজানুর রহমানের গল্প
খুলনা ৯৯ মিটাপে স্পিকার হিসেবে আয়োজকদের কাছ থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ

মনে রাখতে হবে সফলতার প্রথম ধাপ/সিড়ি গুলি কিন্তু অনেক কঠিন হয়। আর একবার যদি সেই ধাপ/সিড়ি গুলি পরিশ্রম আর ধৈর্য্য দিয়ে অতিক্রম করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি যে কোন কাজে সফল হবেন।

আপনি চাকরি করেন, ফ্রিল্যান্সিং করেন, আবার স্টুডেন্টদেরকে প্রশিক্ষণ দেন, একসাথে কিভাবে সম্ভব?

আলবার্ট সুইজার একটা কথা বলেছিল,

সফলতা সুখের চাবিকাঠি নয় বরং সুখ হল সফলতার চাবিকাঠি। আপনার কাজকে যদি আপনি মনে প্রানে ভালবাসেন এবং উপভোগ করেন তাহলে অবশ্যই আপনি শত ব্যস্ততার মাঝেও যে কোন কাজ করতে পারবেন এবং সফল হবেন।

সাইন্সসিটি, কলকাতা
সাইন্সসিটি, কলকাতা

আমি আসলে প্রতিটা কাজকেই পছন্দ করি, উপভোগ করি, মন থেকে ভালোবাসি। আপনি যদি কোন কাজ মন থেকে ভালোবাসেন, উপভোগ করেন তাহলে আপনি সফল হবেন। ডিজাইনটা আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে যাহা আমি টাকার জন্যে না হলেও বেঁচে থাকার জন্যে করতে হবে।

তাই যে কোন কাজ কে আগে উপভোগ করতে শিখুন। আর উপভোগ করতে শিখলে শত ব্যস্ততা এবং ক্লান্তির মাঝেও আপনি একের অধিক কাজ করতে পারবেন। যাহা কখনও আপনার ক্লান্তি অনুভূত হবে না।

আমি অনেক সময় অফিস শেষে কাজের চাপে যখন ক্লান্ত হয়ে যাই, তখন মনে মনে চিন্তা করি বাসায় গিয়ে আজ পিসিতে বসবো না বিশ্রাম নিবো। অথচ বাসায় এসে দেখা যায় পিসিতে বসার জন্যে চটপট করতে থাকি এবং একটা সময় পিসি চালু দিয়ে কাজ করতে থাকি পরক্ষনে দেখা গেছে কাজ করতে করতে রাত ১২ টা পার হয়ে গেছে কিন্তু সারা দিনের ক্লান্ততার কথা ভুলেই গেছি। এইভাবে অনেক রাত হয়ে যায় টেরই পাই। না আমি যে ক্লান্ত ছিলাম এই কথাটাই ভুলে যাই। আর সবই সম্ভব হয়েছে কাজটা কে আমি অনেক ভালোবাসি এবং উপভোগ করি বলে। তাই যে কোন কাজ কে আপনি ভালোবাসলে উপভোগ করলে শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে সেটা করা সম্ভব।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার এর ভবিষ্যৎ কেমন?

গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ সবসময় থাকবে। এই পৃথিবীতে মানুষ যতদিন বাঁচবে, ততদিন বিজনেসও টিকে থাকবে এবং মানুষ বাড়ার সাথে সাথে বিসনেস এর পরিধি আরও দিন দিন প্রসারিত হবে। আর মানুষ দ্বারা পরিচালিত হসপিটাল, ফার্মেসী, রেস্টুরেন্ট, বিমান এয়ারলাইন্স, গাড়ি কোম্পানিসহ শত শত বিজনেস আছে যেগুলো সবসময় থাকবে। অতএব গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রয়োজনও থাকবে সবসময়। আর এই পৃথিবীতে এমন কোন প্রতিষ্ঠান নেই যারা লোগো এবং ব্রান্ডিং ডিজাইন আইটেমগুলি ব্যবহার করে না।

একটি প্রতিষ্ঠানের জন্যে লোগো এবং ব্রান্ডিং আইটেমগুলি অত্যাবশ্যাক। যত বিজনেস প্রসারিত হবে, তত গ্রাফিক্স এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। এটা হারিয়ে যাওয়ার কোন সম্ভবনা নেই। সবচাইতে বড় কথা হলো আপনি যে কোন বিষয় যদি জানার মতো জানেন তাহলে সব কাজরই চাহিদা আছে এবং আপনি সফল হবেন।

ডিজাইনে সফল হওয়ার জন্য কিভাবে আগানো উচিত?

লোগো ডিজাইন মিটাপ
খুলনা ৯৯ মিটাপে আগত ডিজাইনারদের বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তরের মুহূর্ত

এইটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আসলে নতুনদের মধ্যে একটা সমস্যা দেখতে পাওয়া যায়, তারা কিছুদিন লোগোর কাজ শিখে, কিছুদিন এসইও এর কাজ শিখে, আবার কিছু দিন ওয়েব এর কাজ শিখে। এইটা আসলে মারাত্মক সমস্যা এবং ব্যর্থ হওয়ার জন্য এইটা অনেক কার্যকরী। কারণ এইভাবে কোন কিছু শুরু করে শেষ না করার ফলে আপনার অনেক সময়, অর্থ ব্যয় হয় ও ধৈর্য্যহারা হয়ে পড়েন এবং একসময় হতাশার সাগরে পাড়ি দেন যার কোন কুলকিনার খুজে পান না।

তাই আপনাকে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কি করবেন কিংবা কি কাজ করতে আপনি উৎসাহবোধ করেন। তাই আপনি কোন ক্যাটাগরীর কাজ শিখবেন আগে তার লক্ষ্যবস্তু স্থির করুন। অর্থাৎ আপনার ভালো লাগার কাজটি নির্বাচন করুন। তারপর ঐ কাজ শেষ পর্যন্ত শিখুন ও উপভোগ করুন। যে কোন কাজ আপনি যদি উপভোগ করেন তবেই আপনি সফল হবেন। মনের বিরুদ্ধে কোন কাজ শিখলে শুধু সময়ই ব্যয় হবে তাতে সফলতা তো আসবেই না বরং একটা সময় ধৈর্য্যহারা এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।

আমরা আরেকটা ভুল করে থাকি,

অনেকেই ফুল গ্রাফিক্স ডিজাইন একসাথে শেখার চেষ্টা করি। ডিজাইন এর সেক্টর কিন্তু বিশাল, অনেক ধরনের ডিজাইন ক্যাটাগরি আছে। যেকোনো একটা নিয়ে কাজ শুরু করেন। তাই প্রথমে একটা ক্যাটাগরী দিয়ে শুরু করা উচিত পরবর্তীতে আপনি আস্তে আস্তে অন্যান্য ক্যাটাগরী শিখতে পারেন অনেকগুলি টপিক একসাথে শিখা উচিত নয় তাতে আপনার মনোযোগ নষ্ট হবে এবং পরিপূর্ণ সফলে বাধাগ্রস্ত হবেন।

যেকোনো একটা বিষয় শিখা শেষ করার পর অন্য একটা বিষয় নিয়ে শিখার চেষ্টা করুন সমস্যা নেই। আমার একজন ছাত্র আছে যিনি ওমান থেকে লোগো ডিজাইন শিখতেছে। ওই ছাত্র ওয়েব ডিজাইনার, এবং ওমানে একটা কোম্পানিতে সে ওয়েব ডিজাইনার হিসাবে জব করছেন। সে আমার কাছে লোগো ডিজাইন শিখছে, তার কাজের প্রয়োজনে অনেক সময় উক্ত কোম্পানীর লোগো ডিজাইন প্রয়োজন হয় বা ওয়েব কাজের স্বার্থে গ্রাফিক ডিজাইনের প্রয়োজন পড়ে তাই উনি আমার কোর্সটা করছেন। তাই আপনি আগে একটা ক্যাটাগরীতে দক্ষ হোন, পরে অন্য ক্যাটাগরী শিখার চেষ্টা করুন।

গ্রাফিক্স ডিজাইনে সফল হওয়ার কিছু ফরমুলা

০১। টুলস গুলোর পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার জানুন।
০২। ডিজাইন নিয়ে রিসার্চ করুন।
০৩। গুগল এবং ইউটিউব থেকে ব্যাসিক ধারণা নিন।
০৪। সম্ভব হলে পেশাদারী একটা কোর্স করুন।
০৫। গ্রাফিক্স কমিউনিটির সাথে ইনভল্ভ হন।
০৬। নিয়মিত ভালো ডিজাইনারদের ডিজাইনগুলি দেখুন।
০৭। 99 ডিজাইনের ডিসকভারী ও প্রিন্টারেষ্ট সাইটের লোগোগুলি নিয়মিত দেখুন।
০৮। ক্যাটাগরী অনুযায়ী ডিজাইন দেখুন।
০৯। কাজের মধ্যে সৃজনশীলতা নিয়ে আসুন।
১০। সময়ের সাথে ডিজাইন আপডেট করুন।
১১। ভালো একটা পোর্টফোলিও তৈরি করুন।

যত বেশী ডিজাইন দেখবেন তত বেশী শিখতে পারবেন যার কোন বিকল্প নেই।

যারা নতুন, প্রথমে তাদের কোন মার্কেট প্লেসে যাওয়া উচিত?

বেশীরভাগ নতুনদের সমস্যা হলো তারা কাজ শিখার আগেই ডলার কিভাবে ইউড্রো দিতে হবে তাহা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অতএব আপনাকে আগে কাজ শিখতে হবে, সঠিকভাবে কাজ শিখার জন্য ডিজাইন নিয়ে প্রচুর গবেষনা করতে হবে। আপনি যখন কাজে স্কিল্ড হবেন, ভালো মানের ডিজাইনার হবেন তখন অনলাইন বলেন আর অফলাইন বলেন দেশী বলেন আর বিদেশী বলেন ৯৯ ডিজাইন বলেন, আপওয়ার্ক বলেন অথবা ফাইবারই বলেন যে কোনো মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারবেন। তাই সবার আগে জানা দরকার ভালো কাজ আর ভালো কাজ জানলে আপনি সব মার্কেট প্লেসেই কাজ করতে পারবেন।

তার জন্যে আপনি ডিজাইন হিল কিংবা ডিজাইন ক্লাউড এ একটি একাউন্ট খুলতে পারেন কিংবা 99 ডিজাইনেও একটি একাউন্ট খুলতে পারেন যদিও বর্তমানে 99 ডিজাইনে একটি একাউন্ট পরিপূর্ণ ভেরিফাই করা অনেক কঠিন হয়ে গেছে, খুব ভালো মানের ডিজাইন না হলে একাউন্ট এপ্রুভ করা যায় না, তবে শুধু প্রতিযোগিতার ডিজাইনগুলি দেখার জন্যে একাউন্ট খোলা যেতে পারে।

এবং সেখানে সর্বোচ্চ রেটিং প্রাপ্ত কিংবা বিজয়ী ডিজাইনগুলি নিয়ে গবেষনা করুন তারা কি ধরনের কালার, ফন্ট, কনসেপ্ট, প্রেজেন্টেশন ব্যবহার করেছে এবং আপনিও তাদের ট্রেকে ঢুকার চেষ্টা করুন এবং সেইভাবে নিজেকে প্রস্তুত করুন। পরবর্তীতে আপনার কিছু ডিজাইন কোন অভিজ্ঞ ডিজাইনারকে রিভিউর জন্যে দেখান কিংবা আপনি যদি মনে করেন যারা সফল কিংবা বিজয়ী হয়েছে তাদের যোগ্য তখনি আপনি একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

আমার স্টুডেন্টদের ৪/৫ মাস শুধু ভালো এবং ক্রিয়েটিভ ডিজাইন গুলো ফলো করতে বলি, শুধুমাত্র শিখার জন্য ডিজাইন কপি করতে বলে থাকি। এবং ৯৯ ডিজাইন, আপওয়ার্কে যারা টপ পজিশনে আছে তাদের ডিজাইন এর সব কন্টেন্ট ফলো করতে বলি।

তাদেরকে বিশেষভাবে বলে থাকি, আমার কোর্স শেষ হয়ে গেলেই মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে যাবা না, প্রাকটিস করতে থাকো ইউনিক এবং ক্রিয়েটিভ ডিজাইন করো, কনসেপ্ট, কালার ও ফন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেও তারপর যখন মার্কেটপ্লসে কাজ করার যোগ্য হবে, তখন আমিই বলবো হ্যাঁ এবার কাজ শুরু করতে পারো।

তাই সবার উচিত আগে পরিপূর্ণভাবে কাজ শিখে তারপর মার্কেট প্লেসে কাজ শুরু করা। আর তাহা না হলে আপনি সফল হওয়ার চেয়ে হতাশাগ্রস্তু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী থাকবে।

লোগো ডিজাইনের জন্য কি কি স্কিল থাকা দরকার?

যারা ভালো কপি করতে পারে তারা ভালো ডিজাইনার ও বটে। কারণ একটি ডিজাইন হুবাহু কপি করতে হলে যেসব টুলস্ এবং প্রসেস জানা দরকার তাহা যদি আপনার জানা না থাকে তাহলে আপনি কখনই একটি ডিজাইন হুবাহু কপি করতে পারবে না।

প্রথমত, প্রত্যেকটা টুলস সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ক্যাটাগরী অনুযায়ী লোগো তৈরীর ধারণা থাকতে হবে। সেই সাথে ক্যাটাগরী অনুযায়ী কালার ও ফন্ট নির্বাচন সম্পর্কেও ধারনা থাকতে হবে। সবসময় চেষ্টা করতে হবে সিম্পল লোগো তৈরি করা। এইজন্য আপনাকে লোগোর ধরণ কিংবা একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যেমত মিনিংফুল কনসেপ্ট ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরী।

আমরা যদি অ্যামাজনের লোগোটা দেখি সেখানে দেখবো খুবই সিম্পল কনসেপ্ট দিয়ে করা কিন্ত এর মিনিং বিশাল। লোগোর প্রত্যেকটা ক্যাটাগরির অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন কিছু কিছু সিম্বল থাকে যাহা লোগোর মধ্যে ফুটিয়ে তুললে কিংবা তার একটি নমুনার ফিল দিলে সেটা খুব সহজে একজন মানুষ বুঝতে পারে কোম্পানীর উদ্দেশ্যে কিংবা কাজ কি।

একটি লোগো দেখলেই যেন সহজেই বুঝা যায় এইটা ইকমার্স নাকি ফার্মেসী নাকি অন্য কোন কোম্পানির জন্য তৈরি করা। খুব সাধারনের মধ্যে মিনিংফুল লোগো তৈরি করতে হবে।

ফন্ট নিয়ে প্রচুর রিসার্চ করতে হবে, ফন্ট কাস্টমাইজ করার সঠিক উপায় জানতে হবে। এবং একটি ডিজাইন কিংবা লোগোর জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কালার, ফন্ট, কনসেপ্ট ও প্রেজেন্টেশন। আর এইসবের ধারণার জন্যে আপনাকে প্রচুর স্টাডি করতে হবে।

ডিজাইন করে কি শুধু ফ্রিল্যাসিং করা যাবে নাকি চাকরিও করা যায়?

হ্যাঁ অবশ্যই চাকরি করা যাবে। আমার কাছে অনেকে কোম্পানি নক করে যে আমাদেরকে ভালো গ্রাফিক্স ডিজাইনার দিতে পারবেন কি? এবং এর স্যালারি হয়ে থাকে মিনিমাম ২৫ থেকে ৩০ হাজার। বাংলাদেশে প্রচুর ডিজাইনার আছে যারা রিমোট জব করতেছে। অর্থাৎ বাসায় বসে আমেরিকা, কানাডা, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড সহ প্রায় সব দেশেই কাজ করছে। এবং মাসে ১০০০ থেকে ৩০০০ ডলার পর্যন্ত স্যালারি পাচ্ছে।
এছাড়াও লোকালি সরকারি প্রজেক্টে (যেখানে মার্কেটিং বা ভিজুয়াল রিপোর্টিংয়ের কাজ রয়েছে), বেসরকারি প্রজেক্টে, প্রাইভেট ফার্ম বা কোম্পানিতেও ভালো ভালো চাকরির সুযোগ রয়েছে।

ডিজাইন শেখার জন্য কোর্স করা কী উচিত?

লোগো ডিজাইন কি
কর্মস্থলে আমার বসের সাথে

আমি মনে করি পেশাদারী কারো কাছ থেকে কোর্স করতে পারলে ভালো, এতে আপনি দ্রুত এবং সহজেই শিখতে পারবেন, সঠিক গাইড লাইন পাবেন। আর যদি আপনি কোর্স ছাড়া শিখতে চান তাহলে খুব বেশি আগাতে পারবেন না আর পারলেও আপনাকে অনেক সময় ব্যয় করতে হবে এবং সেই পর্যন্ত হয়তো আপনি ধৈর্য্যহারাও হয়ে যেতে পারেন।
পেশাদারী কিংবা মার্কেট প্লেসে বাস্তবে কাজ করছে এমন মেন্টর থেকে ডিজাইন শিখার চেষ্টা করুন। তাতে আপনি দ্রুত সঠিক গাইড লাইন পাবেন এবং মার্কেটপ্লেসে কাজ করার উপযোগী হয়ে উঠবেন।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে কি কি বিষয় জানা উচিত?

০১। ইংরেজিতে ভালো দক্ষ হতে হবে।
০২। স্মার্টলি কমিউনিকেশন করার দক্ষতা থাকতে হবে।
০৩। একজন ক্লায়েন্ট এর চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন বুঝার ক্ষমতা থাকতে হবে।
০৪। একজন ক্লায়েন্ট এর আস্থা/বিশ্বাস অর্জন করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
০৫। কাজ করার এবং ক্লায়েন্ট এর রিভিশনে ধৈর্য্য থাকতে হবে।
০৬। মোটামুটি কনফিগারেশনের একটা পিসি এবং ইন্টারনেট লাইন অবশ্যই থাকতে হবে।

লোগো ডিজাইনের জন্য কি ধরনের সফটওয়্যার প্রয়োজন?

লোগো ডিজাইনার দের উপযুক্ত সফটওয়্যার বাঁচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে লোগো ডিজাইন করার জন্য অ্যাডোবি ফটোশপ ব্যবহার করে থাকে, আবার কেউ অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার করে থাকে। আমি মনে করি প্রিন্টিং রিলেটেড আইটেমগুলির জন্যে বেস্ট সফটওয়্যার হচ্ছে অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর। এছাড়াও আপনি অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর এর পাশাপাশি অ্যাডোবি ইনডিজাইন ও কোরালড্র এই সফটওয়্যারগুলি দিয়েও কাজ করতে পারেন।

তবে অবশ্যই চেষ্টা করবেন, লোগো এবং ব্রান্ডিং ডিজাইন করার জন্য অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার করা।

কাজ পাওয়ার জন্য ফ্রিল্যান্সারদেরকে কি করা উচিত?

প্রথমে তো অবশ্যই ভালো কাজ শিখতে ও জানতে হবে। যেদিন কাজ করার মতো যোগ্যতা হবে সেদিনই মার্কেটপ্লেসে নামা প্রয়োজন।

গুরত্বপূর্ণ একটা বিষয় হচ্ছে,

প্রথমদিকে সেলারদেরকে বা ফ্রিলান্সারদেরকে অনেক সেক্রিফাইস করতে হয়। অর্থাৎ নিজের প্রোফাইলটা স্ট্রং করার জন্য, পজিটিভ রিভিউ বৃদ্ধি করার জন্য আপনাকে যথেষ্ট সার্ভিস দিয়ে যেতে হবে। আপনি যদি বিটের মাধ্যমে কাজ করেন তাহলে প্রথম দিকে পোর্টফলিও ভারী করার জন্যে ছোট ছোট বাজেটের কাজ নিতে হবে পরবর্তীতে আস্তে আস্তে বাজেট বাড়াতে পারেন। কখনই ক্লায়েন্টদের সাথে রাগারাগি করা যাবে না। একটা মার্কেটপ্লেস কিন্তু লাভবান হয় ক্লায়েন্ট থেকেই সে জন্যে বিভিন্ন কাজের সাইটগুলি একজন ডিজাইনারের চেয়ে ক্লায়েন্টকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আমার একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি –

আমি 99 ডিজাইনে একটা ব্রান্ডিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হই এবং ক্লায়েন্ট কে তার সব কাজ সম্পন্ন করে ডেলিভারী দিই এবং ক্লায়েন্ট সবকাজ বুঝে নিয়ে আমার ডলার রিলিজ করে দেয়। পরবর্তীতে ঐ ক্লায়েন্ট ৪ মাস পরে আবার নক দিয়ে বলে তার লোগোর কিছু অংশ পরিবর্তন করে দিতে।

তখন আমি তার কথায় তেমন একটা গুরুত্ব দেই নাই এবং বিরক্তবোধ করেছি এতদিন পরে কেন সে নক দিলো তারপরও ভাবছিলাম করে দিবো কিন্তু পরবর্তীতে কাজের চাপে আর করা হয়নি। তখন ক্লায়েন্ট আমার পোর্টফলিওতে ১ ষ্টার রেটিং দিয়ে এমন বাজে একটা রিভিউ দিয়েছে যাহা যে কোন ক্লায়েন্ট দেখলে আমাকে কখনও আর বিজয়ী করবে না।

পরবর্তীতে ক্লায়েন্টকে অনেকবার মেইল দেওয়ার পর সে ঠিক করে দেয় কিন্তু ততক্ষনে আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। তাই কখনও ক্লায়েন্ট কে অবমূল্যয়ন করা যাবে না কারণ ক্লায়েন্ট আপনার পোর্টফলিও তে খারাপ রেটিং দিলে আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে কিংবা আপনার একাউন্ট ব্যান হওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে। তাই ক্লায়েন্ট এর উপর বিরক্ত হলেও তাকে বুঝতে দেওয়া যাবে না, যেইভাবেই হোক তাকে ম্যানেজ করতে হবে।

পোর্টফোলিও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি ভালোমানের র্পোটফলিও একজন ডিজাইনারের জন্যে অনেক গুরুত্বর্পূন একটা বিষয়। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজ শিখার পর প্রথম কাজই হচ্ছে ভালো একটি পোর্টফোলিও তৈরি করা।

আর সেটা আপনি বিহান্স, ড্রিবল কিংবা ব্যক্তিগত ওয়েব সাইটের মাধ্যমে তৈরী করতে পারেন। ইহাছাড়া ভালো একটি পোর্টফোলিও থেকে সরাসরি অনেক ক্লায়েন্টও পাওয়া যায়। একজন ক্লায়েন্ট আপনার সাথে চুক্তিতে যাওয়ার আগে আপনার ডিজাইন কোয়ালিটি দেখতে চাইবে। ভালো কোয়ালিটির পোর্টফোলিও থাকলে ক্লায়েন্ট আপনাকে ট্রাষ্ট করবে এবং সহজেই বুঝতে পারবে যে আপনি ভালো কাজ করার ক্ষমতা রাখেন।

একটি পোর্টফোলিও আপনার প্রফেশনাল দক্ষতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার একটি বড় প্রমাণ। একজন সম্ভাব্য নিয়োগদাতা এর মাধ্যমে আপনার কাজের মান ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান।

অনেক ক্লায়েন্ট কাজ দেওয়ার আগে দেখতে চায়, তুমি এই ধরনের ডিজাইন কখনো করেছো? তুমি যে ভালো ডিজাইন করতে পারো তার প্রমান কি?

তখনই কিন্ত আপনার পোর্টফোলিও দেখাতে হবে। যদি না দেখান তাহলে কাজ না পাওয়ার সম্ভবনা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই আপনি যে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার বা লোগো এবং ব্রান্ডিং ডিজাইনার সেইটা প্রমান করার চেষ্টা করতে হবে। এইজন্য কাজ শেখার পরপরই ভালো একটি পোর্টফোলিও তৈরী করতে হবে।

নতুনদের উদ্দেশ্যে আবারও কিছু বলে যায় –

আমার ১৬তম গ্রাফিক্স ডিজাইন ব্যাচের স্টুডেন্টদের সাথে

১। প্রথমে আপনার পছন্দের কাজটা বাচাই করুন।
২। তারপর ভালো একটা মেন্টর খুজুন।
৩। গুগল এবং ইউটিউবে রিসার্চ শুরু করুন।
৪। ফটোশপ ও ইলেস্ট্রেটর এর টুলস গুলো পরিপূর্ণভাবে শিখুন।
৫। প্রচুর প্রাকটিস করুন।
৬। প্রফেশনাল এবং ক্রিয়েটিভ ডিজাইন করতে শিখুন।
৭। মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নিন।
৮। সঠিক গাইডলাইন খুঁজুন।
৯। সফল লোগো ডিজাইনাদের ফলো করুন।
১০। প্রফেশনালি এবং স্মার্টলি কাজ করার চেষ্টা করুন।
১১। ভালো পোর্টফুলিও তৈরি করুন।
১২। কমিউনিকেশন স্কিল বৃদ্ধি করুন।
১৩। ফন্ট এবং কালার নিয়ে প্রতিদিন রিসার্চ করুন।
১৪। ক্লায়েন্টের বর্ননা ও রুচি বুঝার চেষ্টা করুন।
১৫। কাজ শুরু করে দেন এবং কাজ না পাওয়া পর্যন্ত লেগে থাকুন।

আরও জানুন –

সফল ডিজিটাল মার্কেটার, থাইল্যান্ডে গড়েছেন নিজের অফিস

ফ্রিল্যান্সিং করে ২০ বছর বয়সেই কোটি টাকা আয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here