ওয়েব ডেভেলপার
একজন অভিজ্ঞ ও সফল ওয়েব ডেভেলপার

কাজী মামুন হচ্ছেন বাংলাদেশের সফল এবং টপ লেভেল ওয়েব ডেভেলপারদের মধ্যে অন্যতম। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে আপওয়ার্কে ফ্রিল্যন্সার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এর বাহিরেও প্রচুর লোকালী ও গ্লোবালী ক্লায়েন্ট আছে, যাদেরকে সারা বছরই সার্ভিস দিয়ে থাকেন। উনার সফলতার গল্প নিয়েই থাকছে বিশদ আলোচনা।

আমি সবসময় বলে থাকি, মোটিভেশন/অনুপ্রেরণা কাউকে জোর করে দেওয়া যায় না। কিছু সফল মানুষ আছেন, যাদের অসাধারণ সফলতা দেখলে এমনিতেই অনুপ্রাণিত হওয়া যায়। আর উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রকৃত অনুপ্রেরণায় বেশি কার্যকরী।

এবং কিছু সফল মানুষদের মধ্যে কাজী মামুন একজন। যার অসাধারণ সফলতার গল্প পড়লে আপনি যথেষ্ট অনুপ্রাণিত হবেন।

সৎ, সাহসী মানুষরা কঠোর পরিশ্রম করে, অসম্ভবকেও সম্ভব করে ফেলে। তারা সবসময় স্কিল ডেভেলপমেন্টের পিছনে সময় দেয়, শুধু টাকা আর সাফল্যের পিছনে দৌড়ায় না, একটা সময় সাফল্য আর টাকা তাদের পিছনে দৌড়ায়।

সমস্যা সবারই কম বেশি থাকে, দ্রুত দক্ষতার সাথে সকল সমস্যা সমাধান করতে পারা এবং অতীতকে একেবারে ভুলে যাওয়া নই, বরং অতীতের পূর্ব অভিজ্ঞতাকে সামনে কাজে লাগিয়ে আগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

সফল ওয়েব ডিজাইনার
২০০৯ সালে AIUB ইউনিভার্সিটিতে টেকনিক্যাল সেশন নেওয়ার সময়

বরাবরেই মতোই আজকে আমাদের ট্রেন্ডি বাংলার বিশেষ অতিথি হচ্ছেন, কাজী মামুন। যাকে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটির প্রায় অর্ধেক মানুষ চিনে একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ওয়েব ডেভেলপার এবং ভালো মানুষ হিসেবে। ইনফোরমেটিভ তথ্য জানা ও শেখার জন্য শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন।

সফল ওয়েব ডেভেলপার কাজী মামুনের গল্প

আমি কাজী মামুন। পেশায় একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং ডিজাইনার। আমার জন্ম ঢাকাতেই এবং ঢাকা ঘিরেই আমার জীবনকাল। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি / এ.আই.ইউ.বি থেকে।

বর্তমানে কি নিয়ে কাজ করছেন? এবং কতটা সফল হয়েছেন?

বর্তমানে আমি মূলত আপওয়ার্কে ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করছি । আপওয়ার্কে এবং এর বাইরে আমার বেশ কিছু ফিক্সড ক্লায়েন্ট আছে, ঘুরেফিরে তাদের কাজ নিয়েই সারাবছর ব্যস্ত থাকা হয়। এর পাশাপাশি লোকাল (দেশের ভেতরের) এবং গ্লোবালি (বিশ্বব্যাপী) ডিরেক্ট মার্কেটিং ক্লায়েন্টদেরকে আমার ভেঞ্ছার Team Mavin এর মাধ্যমে সার্ভিস দিয়ে থাকি।

২০১২ সালে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলাম। ৩-৪ টা কাজ করার পর ফুলটাইম জবে ঢুকে যাই, তাই আর কন্টিনিউ করা হয়নি। তারপর ২০১৪ এর শেষ থেকে এখন পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সিং করছি পুরোদমে। এখন পর্যন্ত আপওয়ার্কে ১৩০ টি জব কমপ্লিট করেছি।

কাজের পাশাপাশি নিজের ফ্রি সময়ে কমিউনিটির নিকট দায়বদ্ধতা থেকে চেষ্টা করি নতুনদেরকে কিছু কার্যকরী ও তথ্যবহল জিনিস জানানোর। আর সেটা সাধারণত Freelancer Community of Bangladesh (আগের UpWork Bangladesh) গ্রুপ এবং আমার ব্লগের (kazimamun.com) মাধ্যমে চেষ্টা করে থাকি।

সফল ওয়েব ডেভেলপার কাজী মামুন
পলক সাহেবের থেকে National Freelancer Award এর অরগানাইজার হিসেবে স্মারক সম্মাননা নেয়ার মুহূর্ত

সফলতা ও অর্জন ব্যপারটা আমার কাছে বেশ আপেক্ষিক মনে হয়, এটা একেকজনের কাছে একেকরকম। কারো জন্য, টাকা পয়সা, গাড়ি- বাড়ি মানে সফলতা। আর কারো ক্ষেত্রে এগুলো তেমন কোন মানেই রাখে না।
আমার ক্ষেত্রে, সবচেয়ে বড় অর্জন বলবো নিজের পরিবারের সবার সাথে সুখে শান্তিতে থাকতে পারা। আল্লাহর রহমতে বাবা-মা সহ একসাথে থাকতে পারছি, আলহামদুলিল্লাহ আমার দুই মেয়েকে নিয়ে সময় কাটাতে পারছি। চোখের সামনে তাদেরকে সবসময় পাচ্ছি, এটা এক বিশাল অর্জন। আর বস্তুগত অর্জন যদি বলতে হয় তাহলে বলবো এখনো “যেতে হবে বহুদূর।

কখন থেকে চিন্তা করেছেন ওয়েব ডেভেলপার হবেন?

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটা আসলে নিজের ডিসিশন এর উপর চলেনা, বাবা-মা এবং পারিপার্শ্বিক অনেক কিছুর উপর ভিত্তি করে চলে। আমার ক্ষেত্রে এর কিছুটা ব্যতিক্রম হয়েছিল বলতে হয়। পাবলিক ভার্সিটি গুলোতে চান্স না পেয়ে যখন কুল কিনারা পাচ্ছিলাম না কি করবো, তখন আশীর্বাদের মতই আমার বড় দুলাভাই পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। তার উদ্যোগেই আসলে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া। আর ছোটকাল থেকেই কম্পিউটার আমাকে ভীষণ টানতো।

ওয়েব ডিজাইনার
আমার ওয়ার্ক স্টেশন

কোথাও গেলে কম্পিউটার এর টানে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসতাম। তো যখন সিদ্ধান্ত হলো প্রাইভেটে ভর্তি হবো, তখন এক বাক্যে সেটা ছিল কম্পিউটার সায়েন্স এ পড়বো। আর সেখান থেকেই এই পেশায় আসার বীজ বপন বলতে পারেন।

কিভাবে অসাধারণ একটা জার্নি শুরু করেছেন?

কম্পিউটার নিয়ে ঘাটাঘাটি করার জ্ঞ্যান থাকলেও প্রোগ্রামিং এ আসলে তেমন কোন ধারনা ছিলনা, তো যেমন এক্সাইটমেন্ট নিয়ে ক্লাস শুরু করেছিলাম এক সেমিস্টার যেতেই কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিলাম, প্রোগ্রামিং এর ব্যাসিক ধরতে ধরতে।

তবে ধীরে ধীরে সেটা কাটিয়ে উঠেছিলাম। থিয়োরি খুব বোরিং লাগলেও ল্যাব এ কাজ করতে গিয়ে সেটা অনেকটা পুষিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশী মজা পাই ওয়েব প্রোগ্রামিং করতে গিয়ে। সেখানেই প্রথম HTML, CSS, ছোটখাটো JavaScript কোড, ছোট ছোট ডাটাবেস কোয়েরি, php এর বেসিক ধারনা পাই।

আর তখনই আসলে বুঝতে পারি, আমি মনে হয় এই লাইনেই কিছু একটা করবো। ক্যারিয়ার গড়লে এর আশেপাশেই কিছু একটা করবো। তো সেখান থেকেই মূলত ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করার আগ্রহের শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ভার্সিটি শেষ হয়ে গেলে নিজের পোর্টফলিও সাইট করা, প্র্যাকটিস প্রজেক্ট করা চলতেই থাকতো।

সফল ওয়েব ডেভেলপার
২০১২ সালে সিঙ্গাপুরে মাইক্রোসফট এর একটা কনফারেন্সে

আমার শেখার বেইজটা ছিল ইউনিভার্সিটি থেকেই আর এর পাশাপাশি আমি প্রচুর টিউটোরিয়াল দেখতাম। এবং নিজের কাজের ঘরানার নতুন কিছু আসলে সেটা ঘাটাঘাটি করতাম। রিসোর্স হিসেবে Lynda, YouTube, Pluralsight, Tuts+ বেশী ফলো করতাম সে সময়ে। ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি কারিকুলামে পড়াশোনা করার কারণে এবং ইন্টারন্যাশনাল কিছু অর্গানাইজেশন এর সাথে কানেক্টেড থাকার কারণে ইংরেজিতে খুব একটা সমস্যা ছিল না, তাই ইংরেজি রিসোর্স ফলো করতেও সমস্যা হতোনা খুব একটা। এটা আমাকে অনেক দিক থেকেই অনেক সুবিধা দিয়েছে বলবো। স্পেশালি যখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করি তখন কমিউনিকেশন নিয়ে খুব একটা ভয় পাইনি বা বিপদে পরিনি।

কাজ করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আর এটা সবার ক্ষেত্রেই কমন। যত এক্সপার্ট’ই আপনি হোন না কেন, কাজের ক্ষেত্রে নতুন কিছু অবশ্যই করবেন, আর করতে গেলে সেখানে কিছু না কিছুতে আটকে পরবেনই।

এক্ষেত্রে আমি সবচেয়ে বড় সহযোগিতা পেয়েছি গুগল থেকেই। ইফেক্টিভভাবে সার্চ করতে পারলে ৯০-৯৫% সমাধান আপনি নিজেই পেয়ে যাবেন এবং একটু সময় নিয়ে স্টাডি করলে সমাধান’ও করে ফেলতে পারবেন। তবে অনেক সময় হয়তো দ্বিতীয় মতামত বা এক্সপার্ট সাজেশন দরকার হয়।

সেসব ক্ষেত্রে আমি আমার সার্কেলের বন্ধু বান্ধবদের সাথে আলোচনা করি, একজন ফ্রেন্ডের নাম মেনশন করছি, মুস্তাকিম। মোটামুটি সব টেক বিষয়েই দ্বিতীয় মতামত বা সাজেশনের জন্য দেখা যায় ওর সাথে আলোচনা করা হয়। এর পাশাপাশি কমিউনিটিতেও ভাই ব্রাদারদের সাথে আলোচনা করা হয় প্রয়োজনে।

যেমন খুব রিসেন্টলি বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে হাসিন হায়দার ভাইয়ের সাথে আলোচনা করলাম এবং এক্সপার্ট অপিনিয়ন নিলাম। তো যে কাজই করুন না কেন, আর যত এক্সপার্ট’ই আপনি হোন না কেন, সবসময় একই কাজ করেন এমন কমিউনিটিতে ইনবল্ভ থাকার চেষ্টা করবেন। অনেক কিছুতেই হয়তো অনেক সাহায্য পাবেন যা হয়তো আপনি একা করতে গেলে দিনের পর দিন লেগে যেত।

বর্তমান বিশ্বে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের ভবিষ্যৎ কেমন?

বিশ্ব টেক জগত আসলে সবসময় ইম্প্রোভ করতে থাকে এক রূপ থেকে আরেক রূপে। তো ওয়েভ ডেভেলপারের ভবিষ্যৎ সবসময়ই আমার কাছে উজ্জ্বল এবং সম্ভাবনাময় মনে হয়। শুধু প্রয়োজন হবে নিজেকে এই চেঞ্জিং সিস্টেম এর সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার প্রবণতা। এ সেক্টরটাই এমন যে আপনি কিছুদিন স্টাডি এর বাইরে থাকলেই পিছিয়ে যাবেন। যে নিজেকে সবসময় ছুরির মত শান দিয়ে রাখবে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার কোনই কারণ নেই।

অভিজ্ঞ ওয়েব ডেভেলপার
২০১৫ সালের Microsoft Headquarter, Seattle, USA

বাংলাদেশের চাকরির সেক্টরে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কেমন চাহিদা রয়েছে?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। হয়তো খুব বড় বড় অনেক কোম্পানি নেই কিন্তু ছোট ছোট ফার্মগুলো সারাবছরই দক্ষ এবং যোগ্য কর্মীর অভাবে ভোগে।
খেয়াল করবেন আমি দক্ষ এবং যোগ্য দুটি শব্দ ব্যবহার করেছি। আপনি দক্ষ হলেন কিন্তু আপনি প্রফেশনাল হতে পারলেন না, কাজ সময়মত করে শেষ করা, টিম প্লেয়ার হওয়া, ডেডিকেটেডভাবে নিজের সেরাটা দিয়ে একটা প্রজেক্ট শেষ করা, সব মিলিয়েই কিন্তু একজন দক্ষ এবং যোগ্য কর্মী হয়ে ওঠে।

আমাদের দেশে এ দুটোর কম্বিনেশনের বেশ অভাব। তো যারাই এ সেক্টরে কিছু করতে চান, দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি নিজেকে একজন যোগ্য কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন। আশা করছি, আপনার চলার রাস্তায় কখনোই থেমে যেতে হবেনা।

ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্টের মধ্যে পার্থক্য কি?

এই ২টা বিষয় নিয়ে নতুনরা অনেক সময় কনফিউজড হয়ে যায়, আসলে তাদের কোনটা নিয়ে আগানো উচিত?

যেকোন প্রোডাক্ট তৈরি করার সময় সেটার দুইটা অংশ থাকে, এক হচ্ছে এটা দেখতে কেমন হবে, আর আরেকটা হলো এটা দিয়ে কি করতে পারবো।

দেখার যে ব্যপারটা সেটাকে আমরা ডিজাইনের সাথে তুলনা করতে পারি। আর সেটাকে দেখে আমরা তো কিছু একটা করবো, তো সেই কিছু করার জন্য সেই ডিজাইনটার ভেতরে কিছু কর্মক্ষমতা দিতে হবে সেই কর্মক্ষমতাকেই ডেভেলপমেন্ট বলতে পারি।

ওয়েব ডিজাইন
আমার ওয়ার্ক স্টেশনে কাজের ফাঁকে

ওয়েব ডিজাইন সাধারণত একটা ওয়েবসাইট বা ওয়েব এপ্লিকেশন এর ব্রান্ডিং গাইডলাইন, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স, এক্সেসিবিলিটি ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে এটার অভারঅল দেখতে কেমন হবে সেটা করাটাই উদ্দেশ্য থাকে। আপনারা ড্রিবল, বিহান্সে গেলে অনেক অনেক ডিজাইন দেখতে পান, সেগুলোই ওয়েব ডিজাইন। সাধারণত Adobe XD, Figma, Sketch ইত্যাদি সফটওয়্যার দিয়ে ওয়েব ডিজাইন করা হয়।

তো বিহ্যান্স বা ড্রিবলে গিয়ে যখন ডিজাইন দেখেন সেগুলো তো শুধুই একটা প্লেইন ছবির মত। সেগুলোর বাটনে ক্লিক করা যায় না। মেনুতে ক্লিক করা যায়না, শুধুই দেখতে হয়। তো সেই ছবিটাকে প্রাণ দেওয়ার প্রসেসটাই হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। বাটনে ক্লিক করলে কিছু একটা হবে। লিঙ্ক এ ক্লিক করলে অন্য পেজে যাবে। তো সেই প্রাণ দেওয়ার জন্য যে কাজটা করতে হয় সেটা হলো কিছু নিয়ম ফলো করে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে কোডিং করা। ওয়েবসাইট বা এপ্লিকেশনের উপর নির্ভর করে ডাটাবেজ প্রয়োজন হতে পারে। ওয়েবসাইটের যেকোন কিছু দেখানোর জন্য HTML, CSS, JS প্রয়োজন হয় আর ওয়েব এপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে এর বিভিন্ন ফাংশনালিটির জন্য php, JS, C#, python এ ধরনের ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়।

আর নতুনরা কি শিখবে এটা তাদের নিজেদেরকেই বের করতে হবে। তারা আসলে কি করতে চায়, এবং কোনটা করতে ভাল লাগে সেটা যাচাই বাছাই করে পিক করে নেয়াটাই বেস্ট বলে আমার কাছে মনে হয়। বিদ্যা কখনোই ফেলনা নয়। আপনি ২-৪ মাস কিছু শিখেন না সমস্যা কোথায়? যদি সেটা আপনার জন্য না হয় তাহলে পরেরটায় মুভ করবেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ কেমন?

ফ্রিল্যান্সিং এর কোন ভবিষ্যৎ নেই। ভবিষ্যৎ আছে আপনার স্কিলের। ঠিক যেমনটা চিরাচরিত যেকোন চাকুরীর ক্ষেত্রে। আপনাকে যেকোন প্রতিষ্ঠান ধরে রাখতে চাইবে বা ছাটাই করে দিবে আপনার স্কিল এর উপর ভিত্তি করে। আপনি যদি আপনার কাজে পারদর্শী হতে পারেন এবং আপনার স্কিল বিক্রি করে কোম্পানি যদি মানি জেনারেট করতে পারে তাহলেই আপনাকে রাখবে। তেমনি আপনি ফ্রিল্যান্স কর্মী হিসেবে আপনার যে স্কিল বিক্রি করছেন সেটা দিয়ে যদি আপনার ক্লায়েন্টরা বেনিফিটেড হয়, তাহলেই আপনি সেখানে টিকে থাকবেন।

সফল ফ্রিল্যান্সার
National Freelancer Award অরগানাইজারদের সাথে

সারা বিশ্বের মানুষ ফ্রিল্যান্স কাজের সাথে ধীরে ধীরে পরিচিত হচ্ছে এবং এর গ্রহণযোগ্যতা দিনে দিনে বাড়ছে। তবে আপনি যদি অনেক বছর ধরে এই সেক্টরে টিকে থাকতে চান সেক্ষেত্রে আপনার কিছু ফিক্সড ক্লায়েন্ট থাকলে প্রসেসটা আপনার জন্য অনেক সহজ হবে। ব্যপারটা এমন না যে এক ক্লায়েন্টই আপনাকে সারামাসের কাজ দিবে। এমন হতে পারে আপনার ২০টা ছোট ছোট ক্লায়েন্ট আছে, যারা দুই এক মাস পরপরই আপনাকে কাজ দিচ্ছে। এবার হিসাব করুন প্রতিমাসে কতগুলো কাজ পাচ্ছেন। এ সেক্টরে টিকে থাকতে হলে রিটার্নিং ক্লায়েন্ট হবে আপনার ট্রাম্প কার্ড।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে কি কি বিষয় জানা প্রয়োজন?

প্রফেশনালিজম। আপনাকে অবশ্যই আপনার কাজের ক্ষেত্রে প্রফেশনাল হতে হবে এবং প্রফেশনালিজম মেইন্টেইন করেই আপনাকে কাজ করতে হবে। এটা যত দেরিতে শিখবেন আপনি ততই পিছিয়ে যাবেন।

নিজের কোর স্কিল (মানে যে সার্ভিস আপনি দিচ্ছেন) সেটা তে আপনাকে ভাল তো হতে হবেই এর পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই প্রফেশনাল হতে হবে। আপনার ইংরেজি লেখা এবং বলার ক্ষেত্রে যদি জড়তা থেকে থাকে তাহলে সেটা কাটিয়ে নিতে হবে।

পাশাপাশি ভিডিও কলে কথা বলার ক্ষেত্রে কোন জড়তা থাকলে সেটা কাটিয়ে নেয়াটাও ভাল হবে। গুগল ট্রান্সলেট, ফ্রেন্ডদের হেল্প নিয়ে করে ফেলবেন এসব চিন্তা থেকে থাকলে ফ্রিল্যান্স কর্মী হওয়ার চিন্তা এখনি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন। এ সেক্টরে আপনাকে অনেকটা ওয়ান ম্যান আর্মির মত কাজ করতে হবে। নিজের স্কিল যা আছে সেটাই আপনার চলার পাথেয়। তো সামারাইজ করে যদি বলিঃ

• কোর স্কিল,
• ইংরেজি বলা এবং লেখার দক্ষতা,
• ক্লায়েন্ট এর সাথে সরাসরি ভিডিও কলে কথা বলার দক্ষতা,
• নিজের স্কিল বিক্রি ক রার দক্ষতা বা নিজেকে মার্কেটিং করতে পারা,
• যেকোন সমস্যাকে ভাগ ভাগ করে সমাধান বের করা এবং সেটা অন্যকে (ক্লায়েন্টকে) বুঝিয়ে বলার দক্ষতা,
• এবং অবশ্যই প্রফেশনালভাবে কাজ ডেলিভারি করতে পারার দক্ষতা।

সফল ওয়েব ডেভেলপার এবং ফ্রিল্যান্সার
Foysal Mustafa ভাইয়ের Viser x অফিসে মিটাপের মুহূর্ত

প্রথমে কোন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করা উচিত?

সবারই তো ইচ্ছা থাকে আপওয়ার্ক কাজ করার, নতুনদের আপওয়ার্কে কাজ করার জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?

কোন মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন এটা কোন ব্যপার না। আমার শুরু ছিল আপওয়ার্ক কিন্তু আমি আমার জীবনের প্রথম ফিক্সড ক্লায়েন্ট পাই স্টাফ ডট কম নামক একটা সাইট থেকে।

তো কখন কোথায় থেকে যে আপনি একজন ভাল ক্লায়েন্ট পেয়ে যাবেন সেটা মহান আল্লাহ’ই জানেন। এইসব নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন দরকার নেই, হায় হায় আমার আপওয়ার্ক প্রোফাইল একসেপ্ট হচ্ছেনা, আমার কি হবে। যেটাতে একাউন্ট আছে সেটা থেকেই বেস্ট আউটপুট নিয়ে আসার চেষ্টা করুন।

দিনশেষে আপনি বিক্রি করছেন আপনার স্কিল। নিজের সার্ভিসটাকে সুন্দরভাবে দিন, দেখবেন পিছনে আর তাকাতে হবেনা।

তবে কিছু না বললে অনেকে আবার একটু রাগ করতে পারেন, তাই বলছি। আপওয়ার্কে কাজ করার প্রস্তুতি হিসেবে যে ব্যপার গুলো মাথায় রাখতে পারেন এবং ঝালাই করে নিতে পারেনঃ

• ইংরেজিতে সুন্দরভাবে কভার লেটার লিখতে পারা।
• ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা এবং ভিডিও কভারলেটার বানানোর দক্ষতা। ভিডিও কভারলেটার মানে হলো যখন কভার লেটার দিচ্ছেন তখন ক্লায়েন্ট এর কাজের সমস্যাগুলো এবং সমাধানের প্রসেস নিয়ে ছোট একটা ভিডিও চাইলে এটাচ করে দিতে পারেন।
• সমস্যা বোঝার দক্ষতা এবং সেটাকে ব্রেকডাউন করে সমাধান করতে পারা।
• নিজের স্কিলকে বিক্রি করা বা মার্কেটিং করার দক্ষতা।

Payoneer Footsal Football tournament Bangladesh
Payoneer Footsal Football tournament এ। আমি এবং আমার টিম।

ভবিষ্যতে আপনার প্লান কি, আর কি কি করতে যাচ্ছেন?

আপাতত নিজের টিমটাকে বড় করার চেষ্টায় আছি। নতুনদের বেশ অনেকেই প্রতিনিয়ত নক দিচ্ছেন তাদের কাজের ইভ্যালুয়েট করার জন্য বা কোনভাবে আমার সাথে ট্যাগড হয়ে কাজ করার ব্যবস্থা করা যায় কিনা জানার জন্য।

তো সেটা নিয়েও চিন্তা করছি নতুনদের ইন্টার্ন অথবা অন্য কোন প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইভ্যালুয়েট করা যায় কিনা। সেটা পাইপলাইনে আছে শীঘ্রই হয়তো আপডেট দিবো এ ব্যপারে। এর পাশাপাশি নতুন একটা প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছি, এখনি রিভিল করতে চাচ্ছিনা। আশা করছি এ বছরের শেষ নাগাদ হয়তো সেটা লঞ্চ করতে পারবো।

আপনি একজন সফল মানুষ, তারমানে সুখীও? সুখী মানুষ হওয়ার জন্য লাইফস্টাইল কেমন হওয়া দরকার?

বাংলাদেশের সফল ফ্রিল্যান্সার
টপ লেভেল ফ্রিল্যান্সারদের সাথে ডিনারের মুহূর্তে

সফলতা ও অর্জনের মতই আপেক্ষিক একটা ব্যপার আমার কাছে। সফলতা আর সুখ আসলে এক নয়। নিজ সেক্টরে অনেক অনেক সফল মানুষ আছে যারা তাদের অসুখী অবস্থা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে। সফল হওয়ার চেয়ে একজন সুখী মানুষ হয়ে বেঁচে থাকাটাই আমি বেশী প্রিফার করবো।

আমার নিজের লাইফস্টাইল আসলে ফলো করার মত কিছু নয়, তাই আমি সে ব্যপারে একেবারেই পরামর্শ দিতে পারবনা। তবে আমি কি করি সেটা শেয়ার করছিঃ-

• সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন একেবারেই কাজ করিনা।
• নিজের পরিবারকে প্রতিদিন কিছুটা হলেও সময় দেয়ার চেষ্টা করি।
• ঘরের কাজে সম্ভব হলে সাহায্য করা।
• বন্ধু বান্ধবের সাথে সময় কাটানো।
• সম্ভব হলে নিজ সেক্টরের কম্যুনিটিতে কিছু ইনপুট দেয়া।
• সময়মত নামাজ আদায় করা।
• যেকোন প্রজেক্ট নিলে সেটা পারফেক্টলি ক্লায়েন্ট স্যাটিকফেকশনের সাথে ডেলিভারি করা।

এই হচ্ছে আমার লাইফস্টাইল। নতুনদেরকে বলছি প্রথমে সঠিকভাবে কাজ শিখুন, কাজে দক্ষ হন, প্রতিনিয়ত স্কিল ডেভেলপমেন্ট করবেন। হ্যাঁ, আপনার উপযুক্ত স্কিল বিক্রি করেই জীবনে ভালো কিছু করতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here