হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কি
হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কি

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কি ও কত প্রকার, সফটওয়্যার এর গুরুত্ব এবং হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর পার্থক্য বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন।

কম্পিউটার নির্ভর এই যুগে কম্পিউটার জানেন না বা চিনেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কিন্তু এখন অনেকটাই অসম্ভব। নিত্য নতুন আপগ্রেডেড প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত আমরা, আমাদের কম্পিউটারের সামনে বসেই সারাদিনের মোটামুটি লম্বা একটা অংশ কাটাই আমাদের ব্যক্তিগত অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কোন কাজ সম্পন্ন করার নিবিড় প্রয়াসে।

এই যে এতো লম্বা সময়ের সঙ্গী আমাদের এই কম্পিউটার। আর এই লম্বা সময়ের সম্পর্কের সুবাদেই মোটামুটি আমরা সকল কম্পিউটার ব্যবহারকারীরাই এটা জানি যে, একটা কম্পিউটার গঠিত হয় মুলত দুটো অংশ দিয়ে-এক হলো এর শরীর তথা হার্ডওয়্যার এবং দ্বিতীয়টি হলো এর আত্মা অর্থাৎ সফটওয়্যার।

প্রিয় পাঠক, আজকের এই আর্টিকেলে আমরা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সম্পর্কে মোটামুটি একটা স্বচ্ছ ধারণা আপনাদেরকে দেওয়ার চেষ্টা করবো।

হার্ডওয়্যার কি?

একটা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার হলো এর সেসব পার্টস বা অংশ যার একটা নিজস্ব শারীরিক গঠন বা কাঠামো রয়েছে এবং যা দেখা যায় ও স্পর্শ করলে এর অবস্থান স্পষ্টত অনুভব করা যায়। একটা কম্পিউটার এর শারীরিক কাঠামো, পুরোটাই গঠিত হয় বিভিন্ন হার্ডওয়্যার দিয়ে।

যেমনঃ হার্ডডিস্ক, র‍্যাম, ডিভিডি-রোম, মনিটর, মাউস,কেসিং, মাদারবোর্ড এসব কিছুই হার্ডওয়ারের অন্তর্ভুক্ত।

হার্ডওয়্যার এর প্রকারভেদঃ

সাধারণত যে কোন কম্পিউটারে দু ধরনের হার্ডওয়্যার থাকে। এগুলো হল-

১. ইনপুট হার্ডওয়্যারঃ

কী-বোর্ড, মাউস,স্ক্যানার, জয়স্টিক, ওয়েব-ক্যাম, ক্যামেরা, টাচস্ক্রীন, মাইক্রোফোন এগুলো হলো কম্পিউটারের ইনপুট হার্ডওয়্যার। ইনপুট হার্ডওয়্যার বলা হয় সেসব হার্ডওয়্যার কে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি কোন ডাটা ইনপুট করেন অথবা কোন একটা ইনফরমেশন প্রসেসিং সিগনালে সিগনালটাকেই কন্ট্রোল করেন এবং ফাইনালি কোন আউট পুট পান।

২. আউটপুট হার্ডওয়্যারঃ

মনিটর, প্রিন্টার, অডিও স্পীকার, হেডফোন, প্রজেক্টর, জিপিএস, সাউন্ড-কার্ড, ভিডিও-কার্ড ইত্যাদি হলো কম্পিউটারের আউটপুট হার্ডওয়্যার।

ইনপুট হার্ডওয়্যার গুলো যে ইনফরমেশন পাঠায় কম্পিউটার সিস্টেম কে প্রসেসিং করার জন্য, আউটপুট হার্ডওয়্যার সেই প্রসেসিং করা ইনফরমেশন গুলো কে রিপ্রোডিউস করে এবং আপনার কাছে ডিসপ্লে করে। ইনপুট হার্ডওয়্যার গুলো শুধুমাত্র কম্পিউটারে ডাটা ইনপুট করতে কাজ করে। আর আউটপুট হার্ডওয়্যার সেই ডাটাগুলোর আউটপুট রেজাল্ট গুলো গ্রহণ করে কম্পিউটারের অন্য কিছু ডিভাইস থেকে এবং পরবর্তীতে আমাদেরকে সেই রেজাল্টটাই আবার ডিসপ্লে করে।

হার্ডওয়্যার এর গুরুত্বঃ

মনে করুন আপনার শরীরের আত্মা বা সোউল বাদে বাকী সব উপকরণ যেমন-হার্ট, কিডনি, ফুসফুস, হাত-পা চোখ-নাক-কান, একের পর এক সব খুলে ফেলা হলো, বাদ বাকি যে চামড়া টা আপনার শরীরে লাগানো, তাও খুলে ফেলা হলো। এবার বলেন আপনার আত্মা টা কোথায় থাকবে, আর আপনিই বা কীভাবে বেঁচে থাকবেন আর কীভাবেই বা কাজ করবেন?

আসলে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার গুলোও আমাদের শরীরের প্রতিটি কার্যকরী অংশের মতন। এর কোন একটা অংশ নাই মানে আমাদের কাজে অসম্পূর্ণতা, এবং কাজ না করতে পারা।
একটা কম্পিউটারের যদি, কেসিং, কী-বোর্ড, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক, পাওয়ার সাপ্লাই এরকম জিনিসগুলো না থাকে তবে এটা আসলে মৃত মানুষের মতন, চলাচলে বা কাজ করতে একেবারেই অক্ষম।

সফটওয়্যার কি?

হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জানলাম, এখন সফটওয়্যার সম্পর্কে কার্যকরী ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। সফটওয়্যার বলতে কম্পিউটারের সকল প্রোগ্রামিং এর সমন্বয় এবং এদের ব্যবহার বা কার্যক্রম করানোকে বোঝায়। এসব প্রোগ্রামের মাধ্যমে কম্পিউটার কে নির্দেশ দেওয়া হয় কখন কোন কাজ কীভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

সফটওয়্যার এর প্রকারভেদঃ

ব্যবহারকারীর চাহিদা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সফটওয়্যারের তৈরী এবং উন্নয়ন করা হয় এজন্য সফটওয়্যার এর প্রকারভেদ ও বিভিন্নরকম হয়ে থাকে।

সাধারণত সফটওয়্যার মূলত তিন ধরনের। সিস্টেম সফটওয়্যার, প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার এবং এপ্লিকেশন সফটওয়্যার। সিস্টেম সফটওয়্যার আবার তিন প্রকার, যথা-অপারেটিং সিস্টেম,ইউটিলিটি এবং মিডল ওয়্যার।

সিস্টেম সফটওয়্যার এর কাজ মুলত বিভিন্ন হার্ডওয়্যার এর সমন্বয় করা এবং কাজের উপযোগী করা পাশাপাশি এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলোর কাজের জন্য কার্যকরী একটা পরিবেশ এর সৃষ্টি করা। মোটামুটিভাবে এটা বলা যায় যে, সিস্টেম সফটওয়্যার গুলো ছাড়া একটা কম্পিউটার অচল কারন এই সফটওয়্যার দিয়েই হার্ডওয়্যার তথা কম্পিউটার চলে।

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো কম্পিউটার ব্যবহারকারী কে কোন বিশেষ কাজ করতে সাহায্যে করে। গ্রাফিক্স সফটওয়্যার, অফিস সফটওয়্যার, মিডিয়া সফটওয়্যার ইত্যাদি হলো এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর উদাহরণ।
আর প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার হলো প্রায় প্রতিটি প্রোগ্রামার অথবা সফটওয়্যার ডেভেলপারদের ব্যবহৃত সেই সফটওয়্যার যেগুলো দিয়ে সিস্টেম সফটওয়্যার এবং এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলোর তৈরী, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অন্য সকল প্রোগ্রাম বা সিস্টেমের সহযোগিতা করার জন্য এসব সফটওয়্যার তৈরী করা হয়।

সফটওয়্যার এর গুরুত্বঃ

সফটওয়্যার এর কাজ হলো কোন ইনপুট কে আউটপুট এ পরিবর্তন করা। একটা সফটওয়্যার সেই কাজ টাই করে যেটা আমি অথবা আপনি তাকে করার জন্য লিখিত কোন ইন্সট্রাকশন (কোডিং) দেন। যাই হোক, ধরে নিন আপনার কম্পিউটারে কোন ইন্টারনেট ব্রাউজার সফটওয়্যার নেই, আপনি কি আপনার কম্পিউটারে ইন্টারনেট চালাতে পারবেন? পারবেন না।

তেমনি কোন অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার ছাড়াও আপনি আপনার কম্পিউটার একদম চালাতেই পারবেন না। সফটওয়্যার ছাড়া প্রতিটি কম্পিউটার প্রায় অচল। কারন এই সফটওয়্যার দিয়েই হার্ডওয়্যার এর কাজের সমন্বয় ঘটে এবং আমাদের কম্পিউটার চলে।

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এর পার্থক্যঃ

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কি জেনেছেন, এবার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এর পার্থক্য সম্পর্কে জানবেন। যদিও হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর একে অপরের সান্নিধ্য ছাড়া কোন কম্পিউটার চলে না, তবুও ফাংশনাল এবং স্ট্রাকচারাল বেশ কিছু পার্থক্য এদের রয়েছে। চলুন দেখি হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পার্থক্য –

০১। হার্ডওয়্যার হলো সেই জিনিস যার শারীরিক অস্তিত্ব আছে এবং এটা ব্যবহার করা হয় সফটওয়্যার কে স্টোর করতে এবং সফটওয়্যার কে কাজ করাতে। অপরদিকে সফটওয়্যার এর কোন শারীরিক অস্তিত্ব নেই। বরংচ সফটওয়্যার হলো কিছু প্রোগ্রামের সমষ্টি যেগুলো আপনার কম্পিউটার কে সক্ষম করে কোন বিশেষ এবং নির্দেশিত কাজ সম্পন্ন করতে।

২। হার্ডওয়্যার সাধারণত ইনপুট, প্রসেসিং, স্টোরেজ,কন্ট্রোল এবং আউটপুট ডিভাইস ইত্যাদি রকমের হয়ে থাকে আর সফটওয়্যার হচ্ছে, সিস্টেম সফটওয়্যার, প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার এবং এপ্লিকেশন সফটওয়্যার ইত্যাদি ধরনের।

৩। সফটওয়্যার এর ডেলিভারি সিস্টেম কাজ করার জন্য হার্ডওয়্যার এর দরকার হয়।সফটওয়্যার গুলো হার্ডওয়্যার এ ইন্সটল করা হয়,আর হার্ডওয়্যার গুলোও তখন কাজ করা শুরু করে যখন সফটওয়্যার গুলো হার্ডওয়্যার এ ইন্সটল বা লোড করা হয়।

০৪। যে কোন কম্পিউটার এর যে কোন হার্ডওয়্যার যে কোন মুহুর্তে চেঞ্জ বা পরিবর্তন করা যায় কিন্তু সফটওয়্যার চেঞ্জ করা যায় না, এর ডাটা তৈরী করা যায়,মডিফাই বা উন্নয়ন করা যায় অথবা মুছে দেওয়া করা যায়।

৫। হার্ডওয়্যার ফেইলিউর সাধারণত এলোমেলো ভাবে হয়, এবং হার্ডওয়্যার এর এক্সপাইরি ডেট এর কাছাকাছি এসে এই ফেইলিউর গুলো অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু সফটওয়্যার এর ফেইলিউর গুলো অনেক সিস্টেমিক হয় তাছাড়া সফটওয়্যার গুলোর যেমন হার্ডওয়্যার এর মত কোন মেয়াদ উত্ত্বীর্ন তারিখ নেই তাই এদের ফেইলিউর গুলো বেড়ে যাওয়ার ও কোন আশংকা নেই।

৬। একটা নির্দিষ্ট সময় শেষে হার্ডওয়্যার গুলো নষ্ট বা ড্যামেজ হয়ে যায়, কিন্তু সফটওয়্যার গুলো একটা নির্দিষ্ট সময় শেষে আপডেট করে নিতে হয় শুধু।

৭। হার্ডওয়্যার গুলো স্পর্শ করা যায় এবং দেখাও যায়। অপরদিকে সফটওয়্যার দেখাও যায় না স্পর্শ ও করা যায় না।

৮। কয়েকটি হার্ডওয়্যার, যেমন-সিডি, ডিভিডি-রোম, মনিটর, প্রিন্টার, ভিডিও কার্ড, স্ক্যানার, হার্ডডিস্ক, র‍্যাম ইত্যাদি। আবার কয়েকটি সফটওয়্যার যেমন-এডোব এক্রোভেট, গুগল ক্রোম, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল, এপল ম্যাপ ইত্যাদি।

উপসংহারঃ

একটা মানুষের যেমন বেঁচে থাকার জন্য নিজের শরীর এবং আত্মা দুটোই দরকার হয় তেমনি একটা কম্পিউটার চলতেও হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার দুটোই দরকার। আত্মা ছাড়া শরীর যেমন মৃত তেমনি সফটওয়্যার ছাড়াও হার্ডওয়্যার ঠিক তেমনটাই । আবার তেমনি হার্ডওয়্যার ছাড়াও সফটওয়্যার ভূমিকা একেবারে শূণ্য।

আর তাই প্রযুক্তি উৎকর্ষ সাধনে এই হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার  দুটোর ভূমিকাই অস্বীকার করার কোন উপায় আমাদের আসলে নেই।

আশা করি হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কি এবং কত প্রকার এই সম্পর্কে বিস্তারিত একটা ধারণা পেয়েছেন।

আরও জানুন –

ইন্টারনেট কি? কিভাবে কাজ করে ও এর সুফল কুফল

অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার সুবিধা অসুবিধা ও ক্ষেত্রগুলো জেনে নিন

জেনে নিন রাত জেগে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কুফল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here