উইন্ডোজ ১০ সেটআপ
উইন্ডোজ ১০ সেটআপ

উইন্ডোজ ১০

২০১৫ সালের ২৯শে জুলাই আইটি বাজারে অবমুক্ত হওয়া উইন্ডোজ ১০ নিয়ে মানুষের উৎসাহের যেন কোন কমতি নেই। মাইক্রোসফট এর আগে উইন্ডোজ এর বেশ কিছু ভার্সন মার্কেটে ছাড়লেও ওইন্ডোজ ১০ এর পরে তারা উইন্ডোজ এর আর কোন পরবর্তী ভার্সন বাজারে ছাড়বে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এক্ষেত্রে তারা যেটা করবে, প্রতিনিয়ত উইন্ডোজ ১০ কে নতুন করে আপডেট করতে থাকবে।

যাই হোক, উইন্ডোজ ১০ নিয়ে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার আলোচনা করবো। যেমনঃ উইন্ডোজ কাকে বলে? উইন্ডোজ ১০ এর সমস্যার সমাধান, এটির সুবিধা এবং অসুবিধা, কিভাবে সেটআপ করবেন, কিভাবে উইন্ডোজ ১০ এক্টিভেট করবেন এবং এর বৈশিষ্ট্য?

উইন্ডোজ কাকে বলে?

প্রথমে জানি উইন্ডোজ কাকে বলে? উইন্ডোজ হলো এমন একটা অপারেটিং সিস্টেম যা বেশ কিছু প্রোগ্রাম কে সমন্বয়ে করে গঠিত হয়। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমটি একটা পারসোনাল কম্পিউটারের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। এই অপারেটিং সিস্টেম এর আগে কম্পিউটার চলতো শুধুমাত্র টেক্সট কমান্ডের কিছু ধারাবাহিক এবং জটিল নির্দেশনায়।

বর্তমানে, উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মূল সুবিধা এবং বৈশিষ্ট্যগুলি একজন ব্যবহারকারীকে তার কম্পিউটারের সাথে বিভিন্ন ইন্টারফেস (কীবোর্ড, মাউস, মাউক্রোফোন ইত্যাদির মাধ্যমে) করার অনুমতি বা সুযোগ করে দেয়।

উইন্ডোজ ১০ সমস্যার সমাধানঃ

০১। উইন্ডোজ ১০ যদি উইন্ডোজের ফাইলগুলোকে কে আপডেট করতে না পারে, এক্ষেত্রে কম্পিউটারের সমস্ত করাপ্টেড ফাইলগুলো ডিলিট করে পিসি রিস্টার্ট দিয়ে আবার প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো আপডেট করা শুরু করেন।

০২। উইন্ডোজ ১০ উইন্ডোজ আপডেটগুলোকে ইনস্টল করতে পারছে না। এ সমস্যা সাধারণত হয় কম্পিউটারের সিস্টেমে থাকা অতিরিক্ত ক্যাচ ফাইলগুলির কারণে। এই অতিরিক্ত ক্যাচ ফাইলগুলো আপনার সিস্টেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে। এই ক্যাচ ফাইলগুলি পরিষ্কার করে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।

০৩। উইন্ডোজ অনুসন্ধান কোনও অ্যাপ্লিকেশন খুঁজে পাচ্ছে না। এই সমস্যাটি মূলত উইন্ডোজ ১০ এর আপডেটে দেখা দেয় তবে বর্তমান আপডেট (থ্রেশহোল্ড 2) তে এই সমস্যা হচ্ছে না। সুতরাং সমস্যা সমাধানে এই আপডেটটি যথাশীঘ্রই রোল আউট করে নিন।

০৪। উইন্ডোজ ১০ মোবাইল ডেটা অতিরিক্ত ইউজ করে। এ সমস্যাটি এর স্বয়ংক্রিয় আপডেট এবং অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশানগুলির ডেটা খাওয়ার কারণে ঘটে। এমনকি আপনি হটস্পটে সংযুক্ত থাকলেও আপনার মোবাইল ডাটা হুটহাট শেষ হয়ে যেতে পারে। এই সমস্যাটি সমাধান করার জন্য, আপনি আপনার টিথার্ড হটস্পটকে একটি ‘মিটার সংযোগ’ হিসাবে সেট করে নিতে পারেন।

০৫। উইন্ডোজ ১০ স্যুইচ অন হচ্ছে না। এই সমস্যাটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনার পিসিতে লাগানো কোনও ইউএসবি ডিভাইসের কারণে ঘটে কারণ এই ডিভাইসগুলো আপনার কম্পিউটারের হার্ড ডিস্কের পার্টিশন নম্বরগুলি পরিবর্তন করতে পারে, তাই উইন্ডোজ প্রয়োজনীয় ফাইলগুলি এবং ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করতে অক্ষম হয়।

এই সমস্যাটি সংশোধন করতে এই পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন।

  • প্রথমেই আপনার পিসি থেকে ইউএসবি ড্রাইভ / স্টিকটি সরিয়ে পিসিটি পুনরায় চালু করুন।
  • প্রয়োজনে উইন্ডোজ লোড হওয়ার পরে ইউএসবি ডিভাইসটি ড্রাইভে আবার প্লাগ ইন করুন (লক স্ক্রিন বা ডেস্কটপ প্রদর্শিত হওয়ার পরে) আশা করা যায় এটি কাজ করবে।

উইন্ডোজ ১০ এর সুবিধা অসুবিধাঃ

কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ও অসুবিধা সমুহ নীচে উল্লেখ করা হলো-

এর সুবিধা সমুহঃ

০১। উইন্ডোজ ৭ এর তুলনায় ১০ এর লোডিং টাইম অনেক কম।

০২। উইন্ডোজ এর আগের ভার্সনগুলোর চাইতে এই ভার্সনে সিস্টেম স্টাবিলিটি এবং পারফরম্যান্স অনেক উন্নত হয়েছে।

০৩। উইন্ডোজ এর আপডেট ভার্সনটি ব্যবহার করাটাই উত্তম। কারন মাইক্রোসফট কখন আবার আগের ভার্সন গুলোর সাপোর্ট দেয়া বন্ধ করে দিবে এটা বলা যায় না। যেমন উইন্ডোজ এক্সপি পছন্দকারীরা মাইক্রোসফট থেকে আর কোন সাপোর্ট পাবেন না।

০৪। আপডেট বাটন দিয়ে উইন্ডোজ ১০ আপডেট করার সময় আপনার প্রয়োজনীয় ফাইলগুলোর কোন ক্ষতি হবে না, অথবা ডিলিট ও হবে না। এইটা অনেক বড় একটা সুবিধা।

০৫। উইন্ডোজ ১০ উইন্ডোজ ফোন গুলোর সাথে ভালো ইন্টিগ্রিটি দেখায়।

এর অসুবিধা সমুহঃ

০১। উইন্ডোজ ১০ এর বিভিন্ন সার্ভিস এবং আরো উন্নত সেবার জন্য আপনার অনেক ব্যক্তিগত তথ্য মাইক্রোসফটের সাথে শেয়ার করতে হবে।

০২। উইন্ডোজ ১০ এর আপগ্রেডেশন এর সময় হঠাৎ করে আপনার কম্পিউটারের সিস্টেম ক্র‍্যাশ করতে পারে। এই ক্র‍্যাশ করা সিস্টেম স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে আপনার আরো কয়েক ঘন্টা শ্রম দিতে হতে পারে।

০৩। উইন্ডোজ ১০ এর আপগ্রেডেড ভার্সনটি পুরানো কম্পিউটার তথা পুরানো হার্ডডিস্ক এর জন্য কার্যকরী নয়। পুরানো হার্ডডিস্ক দিয়ে আপনি উইন্ডোজ ১০ সুন্দরভাবে চালাতে পারবেন না, এটি আপনার কম্পিউটার এর গতি কে অনেক স্লো করে দিবে।

উইন্ডোজ ১০ কিভাবে সেটআপ করবেনঃ

উইন্ডোজ ১০ সেটআপ কে সাধারণত দুটো অংশে ভাগ করা যায়-

প্রথম অংশঃ

  • উইন্ডোজ ১০ ইন্সটলার কে বুটিং করা।

দ্বিতীয় অংশঃ

  • ইন্সটলিং করা।

প্রথম অংশঃ

০১। উইন্ডোজ ১০ ইন্সটলেশন মিডিয়া কানেক্টেড কিনা নিশ্চিত হোন।
০২। স্টার্ট মেনু অন করুন।
০৩। পাওয়ার আইকন ক্লিক করুন।
০৪। রিস্টার্ট দিন।
০৫। Del অথবা F2 বাটন প্রেস করে কিছুক্ষণ হোল্ড করুন।
০৬। বুট ট্যাব নেভিগেট করুন।
০৭। এবার এমন একটি ডিভাইস নির্বাচন করুন যা থেকে বুট করতে হবে।
০৮। কীবোর্ড এর + বাটন প্রেস করুন।
০৯। এই সেটিংটি সেভ করুন।
১০। কম্পিউটার টি রিস্টার্ট হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

দ্বিতীয় অংশ :

০১। একবার প্রম্পটেড হলে নেক্সট এ ক্লিক করুন।
০২। ক্লিক Install now.
০৩। আপনার ওইন্ডোজ ১০ এর কী নাম্বারগুলো সাবধানে ইনপুট দিন। নেক্সট এ ক্লিক করুন।
০৪। accept the lifestyle licence terms’ ক্লিক করুন। এরপর নেক্সট এ ক্লিক করুন।
০৫। আপগ্রেড এ ক্লিক করুন।
০৬। এবার অপেক্ষা করুন উইন্ডোজ ১০ ইন্সটল হওয়া পর্যন্ত।
০৭। একবার সেট আপ হয়ে গেলে অন-স্ক্রিন সেট আপ নির্দেশাবলী সাবধানে অনুসরণ করুন।

কিভাবে উইন্ডোজ ১০ এক্টিভেট করবেন?

নিন্মলিখিত প্রসেসগুলির সাহায্যে আপনি আপনার কম্পিউটারের উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম টি এক্টিভেট বা চালু করতে পারেন।

০১। প্রথমেই সেটিংস এ যান।
০২। আপডেট এবং সিকিউরিটি তে যান।
০৩। অ্যাক্টিভেশন চয়েজ করুন।
০৪। এবার Go to store সিলেক্ট করুন। উইন্ডোজ স্টোরটি এখন উইন্ডোজ ১০ এর যে কোনও সংস্করণের জন্য একটা প্রোডাক্ট পেজ ওপেন করবে।
০৫। আপনি এখন হোম বা প্রো যেটাই কিনেন, আপনার কম্পিউটারের উইন্ডোজ ১০ এর সংস্করণটি আনলক করবে এবং ফাইনালি সক্রিয় করবে।

উইন্ডোজ ১০ এর বৈশিষ্ট্যঃ

০১। উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে মাইক্রোসফট কম্পিউটারের স্টার্ট মেনুটি আবার ফিরিয়ে এনেছে। এখন, আপনি যখন স্ক্রিনের নীচে বাম দিকের স্টার্ট বোতামটি ক্লিক করবেন, কম্পিউটারের বাম কলামটি পিনযুক্ত দেখাবে, সাথে সম্প্রতি এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশনগুলি পাশাপাশি দুটি প্যানেলে সিন হবে।

এছাড়াও হাইবারনেট, স্ট্যান্ডবাই এবং শাটডাউন এর মতো বিকল্পগুলির জন্য আপনি শীর্ষে একটি পাওয়ার বোতামও পাবেন, যা আপনি কাস্টমাইজ, আকার পরিবর্তন এবং পুনর্গঠিত ও করতে পারবেন।

০২। কীবোর্ড অথবা মাউসে স্পর্শ না করেও আপনার ডিভাইসের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করা সহজ করার জন্য উইন্ডোজ ১০ মাইক্রোসফ্টের ভয়েস-নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল সহকারী কর্টানাকে ডেস্কটপ কম্পিউটার গুলিতে নিয়ে এসেছে।

আপনি নির্দিষ্ট ফাইলগুলির জন্য আপনার হার্ডড্রাইভ খুঁজতে পারবেন, নির্দিষ্ট তারিখগুলি থেকে ফটো তুলতে পারবেন। এমনকি আপনার অফিস প্রোগ্রামের পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনাগুলি ও আপনি চালু করতে পারবেন। আপনি কোনও স্প্রেডশিটে কাজ করার সময় মাল্টি-টাস্কিংকে আরও সহজ করে তুলতে ইমেল প্রেরণের জন্যও আপনি এই সার্ভিস টিকে ব্যবহার করতে পারেন।

০৩। এই অপারেটিং সিস্টেমে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারটি মাইক্রোসফট এজ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। মাইক্রোসফট এজ এর ব্যবহারকারীগণকে ভয়েস নিয়ন্ত্রণ, অনুসন্ধান এবং ব্যক্তিগতকৃত তথ্য সরবরাহ করতে কর্টানা ডিজিটাল সহকারীটির সাথে একীভূত হয়েছে।

০৪। আপনার যদি কোনও মাল্টি-মনিটর সেটআপ না থাকে তবে স্ক্রিনের স্থান শেষ হয়ে যাওয়া সহজ। সেই কারণে, উইন্ডোজ ১০ আপনাকে একাধিক ডেস্কটপ সরবরাহ করে যা ব্যবহার করে আপনি দ্রুত এক স্ক্রিন থেকে অন্য স্ক্রিনে সুইচ অন করতে পারেন।

০৫। ডিভাইসগুলির মধ্যে যে কোন ধরনের রূপান্তরকে আরও বিরামবিহীন করতে এ অপারেটিং সিস্টেমে ইউনিভার্সাল অ্যাপস নামে একটি নতুন শ্রেণির সফ্টওয়্যার প্রবর্তন করেছে। মাইক্রোসফট ফটো, ভিডিও, সংগীত, মানচিত্র, লোক এবং মেসেজিং এবং ইমেইল ও ক্যালেন্ডার সহ অপারেটিং সিস্টেমের সাথে ইউনিভার্সাল অ্যাপসের নিজস্ব সেটও বান্ডিল করেছে, যা ট্যাবলেট, ফোন এবং পিসিগুলিতে একইভাবে সার্ভিস প্রদান করে।

উইন্ডোজ ১০ এ মাইক্রোসফ্টের ক্লাউড সার্ভিসটি ওয়ানড্রাইভের মাধ্যমে সঞ্চিত এবং সিঙ্ক করা হয়েছে যাতে আপনি অন্য ডিভাইসে যেখানে যা রেখে গিয়েছিলেন সেখান থেকেই আবার তা বেছে নিতে পারেন।

পরিশেষে,

উইন্ডোজ ১০ হলো মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এর সর্বশেষ সংস্করণ। এর আগে রিলিজ হওয়া মাইক্রোসফটের বিভিন্ন সংস্করণগুলো (যেমন, উইন্ডোজ ৭, উইন্ডোজ ৮ উইন্ডোজ ভিস্তা, উইন্ডোজ এক্স পি ইত্যাদি)। মূলত কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপের জন্য ফিচার করা হয়েছিলো। কিন্তু একমাত্র উইন্ডোজ ১০ মাইক্রোসফটের একমাত্র ভার্সন যেটি বিভিন্ন ট্যাবলেটেও কাজ করে।

উইন্ডোজ ১০ অনেক দ্রুত কাজ করে এবং এটি তুলনামূলক অনেক সুরক্ষিত। সবচেয়ে বড় কথা উইন্ডোজ ১০ চালালে আপনি আসছে বছরগুলোতে মাইক্রোসফট থেকে সব ধরনের সার্ভিস এবং সুবিধা পাবেন।
সুতরাং আপনি যদি সুবিধার কথা চিন্তা করে উইন্ডোজ ৭ কিংবা উইন্ডোজ ৮.১ চালিয়ে থাকেন, আজকেই আপনার কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১০ ইন্সটল করে নিন, আর উপভোগ করতে থাকুন এই অপারেটিং সিস্টেম এর দারুণ সব ফিচার সমুহ।

আরও জানুন –

ইন্টারনেট কি? কিভাবে কাজ করে ও এর সফুল কুফল

এ সময়ের সেরা ১০টি পেশা যা অবশ্যই জানা দরকার

রাত জেগে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কুফল জেনে নিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here